ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরে এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনা ঘটার এক বছর পূর্ণ হয়েছে এবং নিহত ২৬০ জন আরোহীর পরিবার এখনো চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে বলে আল জাজিরা এবং রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। গত বছরের ১২ জুন সংঘটিত এই ভয়াবহ বিমান বিপর্যয়ের প্রথম বার্ষিকী স্মরণে শুক্রবার দুর্ঘটনাস্থলে নিহতদের স্বজনরা সমবেত হন। আহমেদাবাদের একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ১২ মাস পার হলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত कारण সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নীতিমালা অনুযায়ী দুর্ঘটনার এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা থাকলেও ভারতের তদন্তকারীরা এই বিষয়ে আরও সময় দাবি করেছেন।
এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ নম্বর ফ্লাইটটি আহমেদাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করার মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে মেঘানি নগর এলাকার একটি মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ওপর আছড়ে পড়েছিল। বৈশ্বিক বিমান ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর সংগৃহীত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এর সর্বশেষ সংকেত পাওয়া গিয়েছিল। মাটি থেকে মাত্র ৬২৫ ফুট বা ১৯০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছানোর পরেই বোয়িং বিমানটি তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানবন্দরের ঠিক বাইরের একটি আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তে পুরো এলাকায় আগুন ধরে যায়। এই ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয়ে গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি সহ বিমানের ভেতরে থাকা সমস্ত ২৬০ জন আরোহী নিহত হন যা পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
যা কম স্পষ্ট তা হলো বিমানটির জ্বালানি নিয়ন্ত্রণকারী সুইচ বা ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচে কোনো বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না অথবা উড্ডয়নের ঠিক আগে এর প্রধান ইঞ্জিনগুলোতে কোনো কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল কি না। ভারতীয় তদন্তকারী দল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে যা নিহতদের পরিবারের অসন্তোষ ও ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অবিচ্ছুক বেশ কয়েকজন অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে যে বিমানটির ইঞ্জিনের জটিল যান্ত্রিক বিশ্লেষণ শেষ করার জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশে আরও বিলম্ব হতে পারে। কাতার বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান দুর্ঘটনাগুলোর তদন্ত যেভাবে দ্রুত সম্পন্ন হয়, এই ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ধীরগতি নিয়ে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দুর্ঘটনার তীব্রতা বিবেচনা করে বোয়িং কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গত বছর তাঁর পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক এয়ারশো সফর বাতিল করে ভারতের এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী যদি কোনো প্রধান দুর্ঘটনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন এক বছরের মধ্যে প্রস্তুত করা সম্ভব না হয়, তবে প্রতি বছর সেই একই তারিখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। আহমেদাবাদের মেঘানি নগরের বাসিন্দারা এখনো সেই ভয়াবহ দুপুরের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন এবং ধসে পড়া হোস্টেল ভবনের সামনে নিহতদের স্মরণে নির্মিত বিশেষ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য এই তদন্তের স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন স্বজনরা।
