ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটি কর্তৃপক্ষ একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীদের নিরাপত্তার অজুহাতে ২৫.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে যে নতুন অস্থায়ী ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি বা কারাগার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতার ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রকল্পটির উপযোগিতা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচনা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় নগর কর্তৃপক্ষ।
মূল পরিকল্পনা ছিল ১ জুনের মধ্যে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এই কারাগারটি চালু করার, যাতে ১৬ জুন আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার হাইভোল্টেজ ম্যাচের সময় যেকোনো নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলা করা যায়। কিন্তু মালামাল সরবরাহ এবং কর্মী সংকটের কারণে প্রকল্পটি বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে। ২০০৯ সালের পর থেকে ক্যানসাস সিটিতে নিজস্ব কোনো পৌর কারাগার নেই। ফলে বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের ছোটখাটো অপরাধ বা অনিয়মের জন্য অপরাধীদের ৫০ মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত জনসন বা ভার্নন কাউন্টির কারাগারে পাঠাতে হয়।
নগর কর্মকর্তারা শুরু থেকেই এই প্রকল্পটিকে বিশ্বকাপের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। সিটি কাউন্সিলের সভায় কাউন্সিলম্যান ওয়েস রজার্স স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, তারা প্রস্তুত থাকুক বা না থাকুক, বিশ্বকাপের আগেই এই জেল তৈরি করা প্রয়োজন। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, বিশ্বকাপ চলাকালীন এই ডিটেনশন সেন্টারে কোনো বন্দি রাখা সম্ভব হবে না। সিটি ম্যানেজারের কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং জনবল নিয়োগের জটিলতার কারণে প্রকল্পটি আর বিশ্বকাপের নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করতে পারবে না।
নিরাপত্তার খাতিরে বিপুল অর্থ বরাদ্দের পর এমন ব্যর্থতা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। আগামী পাঁচ বছর ব্যবহারের লক্ষ্যে নির্মিত এই মডুলার জেলটি ভবিষ্যতে স্থায়ী কারাগার নির্মাণের আগ পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান হওয়ার কথা ছিল। অথচ টুর্নামেন্ট দুয়ারে কড়া নাড়ার মুহূর্তে এর কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপ চলাকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগর কর্তৃপক্ষ বিকল্প কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
