২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনন্দঘন মুহূর্তের ঠিক আগ মুহূর্তে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভে। বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের পর্দা ওঠার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে বুধবার রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা স্টেডিয়ামের সামনে জড়ো হয়ে তাদের প্রিয়জনদের সন্ধানের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। কর্তৃপক্ষের নীরবতা এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে তারা এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মেক্সিকোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা স্থানীয় অপরাধী চক্রের হাতে তাদের প্রিয়জনরা অপহৃত বা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তবে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো খোঁজ মিলেনি। বিক্ষোভের সময় মারিয়া দে জেসুস সোরিয়া আগুয়াইও নামের এক মা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম কেবল ফুটবল আয়োজন নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, দেশে একের পর এক নিখোঁজের ঘটনা ঘটলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
বিক্ষোভটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। নিখোঁজদের স্মরণে তারা ফুটপাথের ওপর গাঁদা ফুল বা সেম্পাসুচিল দিয়ে একটি বিশালাকার ক্রুশের আকৃতি তৈরি করেন। মেক্সিকান সংস্কৃতিতে এটি মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয়। স্টেডিয়ামের চারদিকে প্রায় এক দশমিক ছয় কিলোমিটার জুড়ে পুলিশ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করলেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই বিক্ষোভ কেবল নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একই সময়ে মেক্সিকোর বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষকেরাও তাদের বেতন ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপের বৈশ্বিক মঞ্চে মেক্সিকোর এই অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার সংকট এবং সামাজিক অস্থিরতা নতুন করে বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হলো। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে থাকলেও, নিখোঁজ স্বজনদের এই কান্না ও প্রতিবাদ উৎসবের আবহে এক ভিন্ন বাস্তবতার জানান দিচ্ছে।
