রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় জ্যেষ্ঠ সেনাসহ নিহত ১২

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৭, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় জ্যেষ্ঠ সেনাসহ নিহত ১২

ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনীর কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ। খারদালি-নাবাতিয়েহ সড়কে চলাচলের সময় একটি সামরিক যানবাহনকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান লেবাননের সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওয়াসাম সাবরা, ক্যাপ্টেন এলি খৌরি এবং সেনাসদস্য হুসেইন ঘাজল। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই হতাহতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, হামলাটি একটি সক্রিয় যুদ্ধাঞ্চলে চালানো হয়েছিল। তাদের ভাষ্যমতে, ওই এলাকায় কোনো সামরিক যানের চলাচলের ক্ষেত্রে আগে থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন ছিল। তারা জানিয়েছে যে এই ঘটনাটির বিষয়ে তারা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখছে। তবে ইসরায়েলের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে লেবাননের সেনাবাহিনী একে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এটি সব ধরনের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়ার একটি কৌশল।

এই হামলার পর তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই ঘটনাকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলবে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এটিকে একটি জঘন্য অপরাধ এবং লেবাননের জনগণের ওপর সরাসরি আক্রমণ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী সালাম নিহত কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওয়াসাম সাবরা, ক্যাপ্টেন এলি খৌরি এবং সেনাসদস্য হুসেইন ঘাজলের পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আগ্রাসনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সামরিক যানের ওপর এমন হামলা যে ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

banner
Link copied!