রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ডেটিং অ্যাপে এআই ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন হিঞ্জ বস

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৭, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

ডেটিং অ্যাপে এআই ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন হিঞ্জ বস

বর্তমানে ডেটিং অ্যাপগুলোতে কথোপকথন শুরু করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রিয় ডেটিং প্ল্যাটফর্ম হিঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাকি জান্টোস। বিবিসি নিউজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে জেনারেশন জেডের তরুণরা ডেটিং অ্যাপে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে বেশ বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের ভাষ্যমতে, এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা ভালোবাসা খুঁজলেও, ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসের অভাবে নিজেদের তুলে ধরতে হিমশিম খাচ্ছেন।

জ্যাকি জান্টোস ব্যাখ্যা করেছেন যে হিঞ্জ বর্তমানে এমন কিছু এআই ফিচার নিয়ে কাজ করছে যা ব্যবহারকারীদের কথোপকথন শুরু করতে সহায়তা করবে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে এই প্রযুক্তি কারো হয়ে কথা বলবে না, বরং ব্যবহারকারীরা নিজেদের ব্যক্তিত্বকে যেভাবে ফুটিয়ে তুলতে চান, তাতে সহায়তা করবে মাত্র। তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে তরুণরা একে অপরের সাথে সরাসরি সামাজিকভাবে মেলামেশার সুযোগ অনেক কম পাচ্ছেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেশন জেডের তরুণরা দুই দশক আগের সমবয়সীদের তুলনায় বছরে অন্তত এক হাজার ঘণ্টা কম সময় সরাসরি একে অপরের সাথে কাটান। এই দীর্ঘ সময় তারা ফোনের স্ক্রিনে বিভিন্ন ডিজিটাল অভিজ্ঞতায় ডুবে থাকছেন। হিঞ্জ প্রধানের মতে, সরাসরি মানুষের সান্নিধ্য থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে জড়তা তৈরি করছে। বিশেষ করে কোভিড অতিমারির পরবর্তী সময়ে তরুণদের সামাজিক দক্ষতা বিকাশের প্রক্রিয়াটি অনেকটা ব্যাহত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

হিঞ্জ প্ল্যাটফর্মটি মূলত এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কে জড়াতে পারেন। হিঞ্জের স্লোগান হলো এটি ডিলিট করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির জনপ্রিয়তার পেছনের কারণ নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষক প্রশ্ন তুললেও, এটি বাজারে নিজেদের অবস্থান বেশ শক্ত করতে পেরেছে। বর্তমানে টিন্ডারসহ অন্যান্য অ্যাপের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যেও হিঞ্জের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গত বছর পর্যন্ত অ্যাপটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৫ লক্ষের কাছাকাছি, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।

যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ ডেটিং অ্যাপের প্রতি অনাগ্রহ বা বার্নআউটের কথা বলছেন, তবুও হিঞ্জ তাদের এআই-চালিত ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ধরে রাখতে আশাবাদী। জ্যাকি জান্টোস মনে করেন, এআই কেবল একটি হাতিয়ার মাত্র, যা তরুণদের সম্পর্কের দুনিয়ায় প্রবেশ করতে এবং তাদের সংকোচ দূর করতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীদের ওপরই নির্ভর করছে। ডিজিটাল যুগে সম্পর্কের জটিল সমীকরণে এআই কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে।

banner
Link copied!