২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে গ্রুপ জি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের আগ্রহ বাড়ছে। বেলজিয়াম, মিশর, ইরান ও নিউজিল্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রুপটি এবারের প্রতিযোগিতার অন্যতম কৌশলগত লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের জন্য এটি হতে পারে শেষ সুযোগ, যেখানে থিবো কুর্তোয়া এবং কেভিন ডি ব্রুইনের মতো তারকারা নিজেদের শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন। শিরোপা জেতার জন্য না হলেও একটি স্মরণীয় বিদায়ের জন্য তাদের দলটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিশর এই গ্রুপের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মোহাম্মদ সালাহ এবং ওমর মারমুশের আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে। সালাহ নিজের ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং বিশ্বমঞ্চে নিজের নাম চিরস্থায়ী করার এটি তার জন্য বড় সুযোগ। অন্যদিকে মারমুশের তরুণ গতি সালাহর অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে মিশরের জন্য নতুন পথ তৈরি করতে পারে। তাদের এই জুটি গ্রুপ থেকে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
ইরান বরাবরের মতোই তাদের সুসংগঠিত এবং রক্ষণাত্মক কৌশলের ওপর ভরসা করবে। গত কয়েক বছরে তারা বড় বড় দলের বিপক্ষে বেশ ভালো লড়াই করেছে। বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা বজায় রেখে সুযোগ বুঝে আক্রমণ করা তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে। গ্রুপের নকআউট পর্বে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে ইরানের শৃঙ্খলা এবং ধৈর্য তাদের বড় অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে।
নিউজিল্যান্ড কাগজে-কলমে এই গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল দল মনে হলেও তাদের খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। চাপমুক্ত হয়ে খেলার সুযোগ তাদের বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে যদি তারা রক্ষণভাগ ঠিক রাখতে পারে, তবে গ্রুপ টেবিলের হিসেব উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রুপ জি হতে যাচ্ছে কৌশল, অভিজ্ঞতা এবং অনিশ্চয়তার একটি অনন্য মিশ্রণ। বেলজিয়াম শীর্ষে থাকার প্রধান দাবিদার হলেও মিশর দ্বিতীয় স্থানের জন্য কঠিন লড়াই করবে, আর ইরান ও নিউজিল্যান্ডের উপস্থিতি গ্রুপটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
