পবিত্র মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণ এবং ছাদ শীতল রাখার জন্য ব্যবহৃত সাদা থাসোস মার্বেল আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রিয়াদ ডেইলি এবং পবিত্র মসজিদ বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশেষ ধরনের মার্বেল পাথর মসজিদে নববীর অভ্যন্তর এবং উন্মুক্ত চত্বরে ইবাদতকারীদের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সৌদি আরবের তীব্র গরমে মুসল্লিদের আরাম নিশ্চিত করতে এই মার্বেলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদের প্রতি বিশেষ যত্নের অংশ হিসেবেই এই আধুনিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মসজিদে নববীর ছাদ এবং বহিরাঙ্গন মিলিয়ে মোট ১,১৭,০০০ বর্গমিটার এলাকায় সাদা থাসোস মার্বেল বিছানো হয়েছে। উজ্জ্বল শুভ্র রঙের এই মার্বেলগুলো সূর্যের তীব্র তাপ শোষণ না করে তা প্রতিফলিত করার ক্ষমতা রাখে। ফলে দুপুরের কড়া রোদেও প্রাঙ্গণের মেঝে অপেক্ষাকৃত শীতল থাকে, যা মুসল্লিদের নামাজ আদায় বা চলাচলের ক্ষেত্রে পরম স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই বিশেষ মার্বেলগুলো নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের উচ্চমান এবং স্থায়িত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কোটি কোটি হজযাত্রী, ওমরাহ পালনকারী এবং দর্শনার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী সেবা নিশ্চিত করতে এই স্থাপত্য উপাদানটি ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু শীতলীকরণ নয়, এই মার্বেলগুলো মসজিদের নান্দনিক সৌন্দর্যকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থাপনা ও নকশার সাথে মিশে গিয়ে এটি একটি শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করে।
মার্বেলগুলোর দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের স্বার্থে কর্তৃপক্ষ কঠোর স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা মেনে চলে। প্রতিদিন বিশেষ উপকরণ ব্যবহার করে এগুলো পালিশ, পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করা হয়। নিয়মিত এই রক্ষণাবেক্ষণের ফলে মার্বেলের প্রাকৃতিক স্বচ্ছতা এবং দীপ্তি অক্ষুণ্ণ থাকে। এছাড়া সূর্যের তাপ প্রতিফলনের যে বিশেষ ক্ষমতা, তা-ও বছরজুড়ে কার্যকর থাকে। এতে মুসল্লিরা বছরের সব ঋতুতেই স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে ইবাদতে মগ্ন থাকতে পারেন।
ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীর আধুনিকায়নে সৌদি কর্তৃপক্ষ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, থাসোস মার্বেল তার অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ। বিশ্বের বৃহত্তম মার্বেল-আবৃত উন্মুক্ত স্থানগুলোর একটি হিসেবে মসজিদে নববীর এই প্রাঙ্গণ এখন প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের এক বিরল সংমিশ্রণ। হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের সেবায় সৌদি কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন এই স্থাপত্যকলা, যা আগতদের ইবাদতে গভীর মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে।
