বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের কিছু গ্রামেও ঈদ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৭, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের কিছু গ্রামেও ঈদ

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে আজ বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। এক দিন আগে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় এই অঞ্চলের দেশগুলোসহ পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, লেবানন, ইরান, তুরস্ক, ফিলিস্তিন ও অস্ট্রেলিয়ার কোটি মুসলমান পশু কোরবানির মাধ্যমে ত্যাগের এই উৎসব পালন করছেন। ভোর থেকেই বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও মসজিদে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।মক্কার মসজিদুল হারামে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় হয়েছে।

ভোরে সূর্যোদয়ের পরপরই মক্কার পবিত্র এই মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে আসা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখো মুসলিম ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি এশিয়ার বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এবং পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিসহ প্রধান শহরগুলোতে বিশাল সব ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ যেসব দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে, সেসব দেশে গত ১৭ মে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছিল। বাংলাদেশের আকাশে তার পরদিন ১৮ মে চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদ উদযাপিত হবে। তবে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার কিছু গ্রামের মানুষ আজ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন এবং পশু কোরবানি দিচ্ছেন। চাঁদপুর, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, ভোলা, নারায়ণগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এই উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।

ইসলামিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহা মূলত চরম আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্যের প্রতীক। হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে তাঁর প্রিয় সন্তান হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। তাঁর এই সর্বোচ্চ আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ জান্নাত থেকে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দেন এবং তা কোরবানি হয়। সেই ঐতিহাসিক ও মহান ত্যাগের ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় পশু কোরবানি করে আসছেন।

বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে উৎসবের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের খতিবরা তাঁদের খুতবায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ফিলিস্তিনসহ নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ব শান্তির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সকাল থেকেই শুরু হয় পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা।

banner
Link copied!