বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয় ও শরীয়তের বিধান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৭, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয় ও শরীয়তের বিধান

ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ আনন্দের দিন, আর এই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ আমল হলো ঈদের নামাজ। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ঈদের দুই রাকাত নামাজ ওয়াজিব। তবে নানা প্রতিকূলতায় বা ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় মুসল্লিরা ঈদের জামাতে শরিক হতে দেরি করে ফেলেন বা নির্দিষ্ট কিছু মাসয়ালা সম্পর্কে অস্পষ্টতা থেকে যায়। ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে এই ধরনের পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির আদায় করা ওয়াজিব।

জামাতে শরিক হওয়ার পর যদি কোনো মুসল্লি দেখেন যে ইমাম ইতিমধ্যে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে ফেলেছেন, তবে তাকে আর হাত তুলে নতুন করে তাকবির দিতে হবে না। ইমাম কিরাতে থাকলে নিয়ত বেঁধে মনে মনে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো আদায় করে নিতে হয়। আবার ইমামকে রুকুতে থাকা অবস্থায় পেলেও হাত না তুলে মনে মনে তাকবিরগুলো শেষ করতে হবে, তবেই রুকুতে শরিক হওয়া যাবে। ইমাম রুকু থেকে উঠে গেলে সেই তাকবিরগুলো আর আদায়ের সুযোগ থাকে না।

যদি কারো ঈদের নামাজের প্রথম রাকাত ছুটে যায় এবং তিনি দ্বিতীয় রাকাতে শরিক হন, তবে ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে বাকি রাকাতটি আদায় করতে হবে। এই রাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথমে সুরা ফাতিহা ও অন্য কোনো সুরা পাঠ করতে হবে। কিরাত শেষ হওয়ার পর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাকবির দিতে হয়। এই তাকবিরগুলোর প্রতিটি পর্যায়ে হাত তুলে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয় তাকবিরের পর হাত ছেড়ে চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে যেতে হবে।

পুরো ঈদের জামাত ছুটে গেলে প্রথমে চেষ্টা করতে হবে শহরের অন্য কোনো ঈদগাহ বা মসজিদে জামাত পাওয়া যায় কি না। যদি অন্য কোনো জামাত পাওয়ার সুযোগ না থাকে, তবে মনে রাখতে হবে যে ঈদের নামাজের কোনো কাজা নেই এবং একা একা ঈদের নামাজ আদায়েরও কোনো নিয়ম ইসলামি শরিয়তে নেই। এক্ষেত্রে চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব বলে হানাফি ফিকহের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়, ঈদের নামাজ ছুটে গেলে চার রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম।

মনে রাখতে হবে, ঈদের নামাজে আজান ও ইকামতের প্রয়োজন নেই। ঈদের জামাতে সময়মতো উপস্থিতি এবং অতিরিক্ত তাকবিরসহ নামাজ সঠিকভাবে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। ঈদের নামাজ শেষে ইমামের খুতবা শোনা ওয়াজিব, তাই খুতবার সময় কথা বলা বা উঠে চলে যাওয়া একেবারেই অনুচিত। শরীয়তের এই ছোট ছোট মাসয়ালাগুলো মেনে চললে ঈদের দিনের আমল যেমন পরিপূর্ণ হয়, তেমনি আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জিত হয়।

banner
Link copied!