বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদের দিন কী খাওয়া সুন্নত ও ইসলামের বিধান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৭, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

ঈদের দিন কী খাওয়া সুন্নত ও ইসলামের বিধান

মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদ কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং ইবাদতের একটি বিশেষ দিন। এই দিনে খাবারের সুন্নত ও আদব সম্পর্কে ইসলামি শরীয়তে অত্যন্ত সুন্দর দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের খাবারের নিয়মের মধ্যে রয়েছে ভিন্নতা, যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসৃত আমল থেকে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। মুসলমানদের জন্য এই সুন্নতগুলো পালন করা ইবাদতেরই অংশ।ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে কিছু খেয়ে বের হওয়া সুন্নত।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কয়েকটা খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। অন্য হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি বিজোড় সংখ্যায় খেজুর খেতেন। আলেমদের মতে, রোজা শেষ হওয়ার আনন্দ প্রকাশ এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের অংশ হিসেবে ঈদের সকালে কিছু খেয়ে বের হওয়ার এই বিধান নির্ধারিত হয়েছে। ঘরে খেজুর না থাকলে অন্য কোনো মিষ্টান্ন বা হালাল খাবার খেয়ে এই সুন্নত আদায় করা সম্ভব, তবে খেজুর দিয়ে শুরু করা উত্তম।

ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে বিধানটি সম্পূর্ণ বিপরীত। এদিন ঈদের নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত কিছু না খেয়ে থাকা সুন্নত। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল আজহার দিন নামাজ থেকে ফিরে নিজের কোরবানির গোশত থেকে দিনের প্রথম আহার করতেন। এই আমলের মধ্যে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি ভালোবাসা এবং ত্যাগের প্রতীকী প্রকাশ রয়েছে। যারা কোরবানি দিচ্ছেন না, তাদের ক্ষেত্রেও এই দিনে নামাজের আগে কিছু না খেয়ে থাকা মোস্তাহাব, তবে নামাজ থেকে ফেরার পর যেকোনো হালাল খাবার গ্রহণ করতে কোনো বাধা নেই।

ঈদের দিনে ভালো খাবার খাওয়া বৈধ ও আনন্দের অংশ হলেও ইসলাম অপচয় ও অতিভোজনকে কখনো সমর্থন করে না। কোরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। তাই ঈদের আনন্দ যেন কোনোভাবেই অহংকার, অপচয় কিংবা গুনাহের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব। খাবার গ্রহণের সময় অপচয় থেকে দূরে থাকাই হলো প্রকৃত উৎসবের আদব।

নিজে ভালো খাবার গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও অভাবী মানুষদের খাওয়ানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। কোরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করে নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করা ঈদুল আজহার উত্তম আমল। খাবার-দাবারসহ জীবনের প্রতিটি কাজে সুন্নাহর অনুসরণ এবং আত্মীয়স্বজন ও অসহায়দের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্যেই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত।

banner
Link copied!