পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র এক দিন বাকি থাকায় দেশজুড়ে কোরবানিদাতারা তাঁদের পছন্দের পশু কিনে বাসস্থান বা হাটে যত্নে রাখছেন। পশুর যত্ন ও সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার ওপর জবাইয়ের পর মাংসের গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ অনেকটাই নির্ভর করে। তবে অনেক কোরবানিদাতাই জানেন না যে, পশু জবাই করার একটি নির্দিষ্ট সময় আগে সব ধরনের শক্ত খাবার খাওয়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ করা জরুরি। প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, পশুর সুস্থতা এবং জবাই-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এই নিয়মটি কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত।
পশু জবাই করার অন্তত ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা আগে সব ধরনের দানাদার খাবার বন্ধ করতে হবে।
ভুসিল, খড় বা ঘাসের মতো ভারী খাবার নির্দিষ্ট সময় আগে বন্ধ করার পেছনে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় আগে খাবার বন্ধ রাখলে পশুর পরিপাকতন্ত্রে থাকা খাদ্য উপাদানগুলো সম্পূর্ণ হজম হয়ে যায়। এর ফলে জবাইয়ের পর পশুর ভুঁড়ি কাটার সময় অতিরিক্ত বর্জ্য বা গোবর চারপাশে ছড়ানোর কোনো সুযোগ থাকে না। এই প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করলে মাংস নোংরা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায় এবং চামড়া ছাড়ানোর কাজটি অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও সহজ উপায়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
ভারী খাবার বন্ধ রাখলেও কোরবানি দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিষ্কার ও সাধারণ পানি পান করাতে হবে। পানি পানের ফলে পশুর শরীরের রক্ত পাতলা থাকে, যার কারণে জবাইয়ের পর শরীর থেকে দ্রুত এবং সম্পূর্ণ রক্ত নিষ্কাশন হয়ে যায়। মাংসের ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে না থাকলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে না এবং মাংস দীর্ঘদিন তাজা রাখা যায়। একই সঙ্গে এই খালি পেটের কারণে পশুর পেশির গ্লাইকোজেন ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়, যা রান্নার পর মাংসকে নরম ও সুস্বাদু করে তোলে।
যদি এই নিয়ম না মেনে কোরবানি দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পশুকে খাবার খাওয়ানো হয়, তবে জবাইয়ের পর নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়। ভরা পেটে পশু জবাই করলে পাকস্থলীর বর্জ্য অসাবধানতাবশত মাংসে লেগে পচন ধরতে পারে এবং মাংসের আসল স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া চামড়া আলাদা করার সময় তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা পশুর চামড়ার বাণিজ্যিক মূল্য কমিয়ে দেয়।
ধর্মীয় বিধিবিধানের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে এবং বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু কোরবানি করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব। ঈদের আগের দিন রাত থেকেই কোরবানির পশুকে সব ধরনের ভারী খাবার দেওয়া থেকে বিরত থেকে শুধুমাত্র পরিষ্কার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত। এতে কোরবানির মাংস যেমন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পুষ্টিকর থাকবে, তেমনি সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সম্পন্ন হবে।
