বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এসি রুমে সাফোকেশন বা শ্বাসরোধের ঝুঁকি এড়ানোর উপায়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৭, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

এসি রুমে সাফোকেশন বা শ্বাসরোধের ঝুঁকি এড়ানোর উপায়

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে শহরাঞ্চলের একটি বড় অংশের মানুষ এখন দিনের বেশিরভাগ সময় কিংবা সারারাত এসি বা এয়ার কন্ডিশনার রুমে কাটাচ্ছেন। তবে ঘর ঠান্ডা রাখার এই যান্ত্রিক স্বস্তির আড়ালে ওত পেতে থাকে এক নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সাফোকেশন’ বা শ্বাসরোধ নামে পরিচিত। অসচেতনতার কারণে দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ বদ্ধ ঘরে এসি চালানোর ফলে প্রতি বছরই বিশ্বজুড়ে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে।বাতাসে অক্সিজেনের তীব্র অভাব ঘটলে মানবশরীরে সাফোকেশনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সহজ কথায়, সাফোকেশন হলো এমন একটি চিকিৎসাগত অবস্থা যেখানে ফুসফুস তথা শরীরের অতিপ্রয়োজনীয় কোষগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। যখন কোনো নির্দিষ্ট স্থানে স্বাভাবিক বাতাস চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন সেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসের ঘনত্ব বিপজ্জনকভাবে বাড়তে শুরু করে। শরীরে অক্সিজেনের এই ঘাটতি সরাসরি রক্ত ও মস্তিষ্কে আঘাত হানে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির তীব্র বুক ধড়ফড়ানি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া এবং একপর্যায়ে কথা বলার শক্তি হারিয়ে জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনা ঘটে।

অনেকেরই একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে যে, এসি হয়তো বাইরের পরিবেশ থেকে তাজা বাতাস টেনে এনে ঘরকে শীতল করে। প্রকৃতপক্ষে, সাধারণ স্প্লিট বা উইন্ডো এসি ঘরের ভেতরের বাতাসকেই বারবার টেনে নিয়ে ঠান্ডা করে এবং পুনরায় সেই বাতাসই ঘরের ভেতরে ছড়ায়। এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনো ঘরের দরজা-জানালা টানা ২৪ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, তবে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে ঘরের ভেতরের অক্সিজেন ক্রমাগত কমতে থাকে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ঘুমের মধ্যে এই সমস্যাটি দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো কিছু টের পাওয়ার আগেই অবশ হয়ে পড়েন।

এসি রুমে এই নীরব সাফোকেশনের ঝুঁকি এড়াতে প্রাণিসম্পদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কিছু জরুরি জীবনযাপনী নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এর জন্য একটানা দীর্ঘ সময় এসি না চালিয়ে দিনে অন্তত কয়েকবার এসির সুইচ বন্ধ রাখা উচিত এবং সেই সময় ঘরের জানালা-দরজা পুরোপুরি খুলে দিতে হবে। এতে ঘরের ভেতরের জমে থাকা দূষিত বাতাস বাইরে চলে যায় এবং বাইরে থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ তাজা বাতাস ঘরে প্রবেশ করার সুযোগ পায়। প্রয়োজনে জানালার এক কোণ সামান্য খোলা রাখা যেতে পারে, যা ঘরের ভেতরের প্রাকৃতিক ভেন্টিলেশন বজায় রাখতে সাহায্য করে।

একই সঙ্গে এসির অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশের যত্ন নেওয়া এবং নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ফিল্টারে জমে থাকা ধুলাবালি ভেতরের বাতাসের মান মারাত্মকভাবে নষ্ট করে। রাতে শোবার ঘরে অতিরিক্ত ইনডোর প্ল্যান্ট বা গাছপালা রাখা উচিত নয়, কারণ রাতে গাছও অক্সিজেন গ্রহণ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামান্য সচেতনতা অবলম্বন করে এসি ব্যবহার করলে এই ধরনের নীরব দুর্ঘটনা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা সম্ভব।

banner
Link copied!