বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোরবানির ঈদে ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার নিয়ম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৭, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

কোরবানির ঈদে ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার নিয়ম

পবিত্র কোরবানির ঈদের আনন্দে মেতে উঠতে প্রস্তুত সারা দেশ। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির এই উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়ায় হরেক পদের মাংসের ভোজন। তবে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস রক্তে সুগার ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন, উৎসবের দিনগুলোতে সুস্থ থাকতে তাঁদের জন্য বাড়তি সতর্কতা এবং জীবনযাপনে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।খাদ্যতালিকায় লাগাম রাখাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।

ঈদের দিনে পোলাও, খিচুড়ি, বিরিয়ানি কিংবা বিভিন্ন ধরনের মিষ্টিজাতীয় খাবারের আয়োজন থাকে প্রায় প্রতিটি ঘরেই। চিকিৎসকদের মতে, এই কার্বোহাইড্রেট ও চর্বিযুক্ত খাবারগুলো রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই উৎসবের আমেজে গা ভাসিয়ে অতিরিক্ত ভোজন না করে নিজের জন্য নির্ধারিত ক্যালোরি মেপে খাবার গ্রহণ করা উচিত। অন্যের অনুরোধে সাড়া দিয়ে খাদ্য তালিকার বাইরে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

মিষ্টিজাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের সবচেয়ে বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ মিষ্টি, পুডিং বা পায়েস খাওয়ার পরিবর্তে ডেজার্ট তালিকায় টকদই, এক মুঠো চিনা বাদাম বা কাঠবাদাম এবং চিনির উপস্থিতি ছাড়া তাজা ফলের সালাদ রাখা যেতে পারে। একইভাবে কোমল পানীয় বা কৃত্রিম ফলের জুস রক্তে দ্রুত সুগার বাড়ায়। এর বিকল্প হিসেবে ডাবের পানি, চিনি ছাড়া গ্রিন টি বা আদা চা পান করা শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী এবং এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

উৎসবের ব্যস্ততার অজুহাতে অনেকেই প্রতিদিনের হাঁটাচলা বা ব্যায়ামের অভ্যাসটি বন্ধ করে দেন। কিন্তু ঈদে অতিরিক্ত ও ভারী খাবার খাওয়ার কারণে শরীরচর্চার প্রয়োজনীয়তা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি থাকে। রক্তে সুগারের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস ধরে রাখা উচিত। যদি কোনো কারণে দিনের বেলা ভারী খাবার খাওয়া হয়েই যায়, তবে রাতের খাবারটি যতটা সম্ভব হালকা এবং চর্বিহীন রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

দিনের সূচি যতই ব্যস্ত থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া এবং ওষুধ গ্রহণের নিয়ম কোনোভাবেই ভাঙা চলবে না। ঘরে মেহমান আসা বা বাইরে বেড়াতে যাওয়ার কারণে অনেক সময় ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ খাওয়ার সময় ওলটপালট হয়ে যায়, যা শরীরের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের সঙ্গে গ্লুকোমিটার রাখা এবং নিয়মিত বিরতিতে সুগার পরীক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

নির্ধারিত নিয়ম মেনে এবং পরিমিত বোধ বজায় রেখে চললে ডায়াবেটিসের রোগীরাও পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন। উৎসবের মূল চেতনা যেখানে আত্মত্যাগ, সেখানে নিজের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় জিহ্বাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা খুব বেশি কঠিন হওয়ার কথা নয়।

banner
Link copied!