পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব, যা ইবাদত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে অর্জিত হয়। এই দিনের মূল শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনটিতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট আমল ও সুন্নত পালন করতেন, যা আজকের দিনেও প্রতিটি মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ আদর্শ। ইবাদত ও উৎসবের এই দিনে সুন্নাহর যথাযথ অনুসরণই প্রকৃত সার্থকতা বয়ে আনে।তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা এই দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।
জিলহজের ৯ তারিখের ফজর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখের আছর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব। এছাড়া ঈদের দিন মেসওয়াক করা, গোসল করা এবং সাধ্যমতো পরিষ্কার ও মার্জিত পোশাক পরিধান করা সুন্নত। পুরুষদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহারের বিধান থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে বাইরে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা শরীয়তের নির্দেশ। পোশাক নতুন হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, বরং পরিচ্ছন্নতাই এখানে মুখ্য।
ঈদুল আজহার দিনে নামাজের আগে কোনো খাবার গ্রহণ না করা সুন্নত। নবীজি (সা.) ঈদের নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত কিছু না খেয়ে থাকতেন এবং নামাজের পর নিজের কোরবানির গোশত দিয়ে দিনের প্রথম আহার সম্পন্ন করতেন। কোনো ওজর না থাকলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া এবং যাওয়ার সময় এক পথ ও ফেরার সময় ভিন্ন পথ ব্যবহার করা নবীজির আদর্শ। ঈদগাহের পথে উচ্চৈঃস্বরে তাকবির পাঠ করাও এই দিনের বিশেষ সুন্নত আমলগুলোর একটি।
খোলা মাঠে বা ঈদগাহে নামাজ আদায় করা অধিকতর উত্তম, তবে প্রয়োজনে মসজিদেও নামাজ আদায় করা জায়েজ। নামাজের পর ইমামের দুটি খুতবা শ্রবণ করা সুন্নত এবং মুসল্লিদের জন্য এটি মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব। কোরবানি করার পর গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা সুন্নত আমলের অন্তর্ভুক্ত; যার এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়স্বজনের জন্য এবং এক ভাগ গরিব ও মিসকিনদের জন্য বরাদ্দ থাকে।
সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন, যা ঈদের সর্বোত্তম অভিবাদন। ঈদের আনন্দের নামে গান-বাজনা কিংবা অশালীন কাজে জড়িয়ে পড়া ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে সুন্নাহভিত্তিক আমল, দান-সদকা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে। আল্লাহর কাছে পশুর রক্ত বা গোশত পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় মুমিনের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।
