মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শরিকের হারাম আয়ের খবর না জানলে কোরবানি শুদ্ধ হবে?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৬, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

শরিকের হারাম আয়ের খবর না জানলে কোরবানি শুদ্ধ হবে?

কোরবানির পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের মনেই একটি বড় সংশয় কাজ করে। প্রশ্নটি হলো— কোনো শরিকের উপার্জনের উৎস যদি হারাম হয়, তবে তার সঙ্গে যারা শরিক হয়েছেন, তাদের কোরবানি কবুল হবে কি না? বিষয়টি নিয়ে ফিকহবিদদের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।শরিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি।

হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোরবানিতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের নিয়ত ও অর্থের উৎস আলাদাভাবে বিবেচ্য। শরিকদের সবার উদ্দেশ্যই ইবাদত হওয়া বাঞ্ছনীয়। যদি কোনো শরিকের পুরো উপার্জন হারাম হয়, তবে তার কারণে অন্য শরিকদের কোরবানিও বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।তবে অজানাতে কোনো অপরাধ নেই।

যদি অন্য শরিকরা আগে থেকে না জানেন যে তার সহ-শরিকের আয় হারাম, তবে তাদের কোরবানি সহিহ হবে। ইসলামে মানুষের বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই বিচার করার বিধান রয়েছে। অন্যের গোপন বিষয় যাচাই করার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের ওপর ন্যস্ত করা হয়নি। পবিত্র কুরআনের সুরা আনআমের ১৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কেউ অন্যের বোঝা বহন করবে না।সন্দেহবশত কাউকে দূরে রাখা কাম্য নয়।

ইসলাম সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে হারামখোর হিসেবে সাব্যস্ত করতে নিষেধ করেছে। সুরা হুজরাতের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, মুমিনরা যেন অধিক ধারণা ও সন্দেহ থেকে বেঁচে থাকে। তাই নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া কাউকে হারাম উপার্জনকারী বলে অভিযুক্ত করা বা তাকে এড়িয়ে যাওয়া নিজের জন্য গুনাহের কারণ হতে পারে।যাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আলেমগণ সাধারণত প্রকাশ্য মাদক ব্যবসায়ী কিংবা যারা পুরোপুরি সুদের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। কারণ কোরবানির মূল ভিত্তি হলো তাকওয়া। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের সুরা হজের ৩৭ নম্বর আয়াতে বলেছেন, এগুলোর গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।হালাল উপার্জনের কোনো বিকল্প নেই।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আল্লাহ পবিত্র; তিনি পবিত্র ও হালাল ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না (সহীহ মুসলিম: ১০১৫)। তাই কোরবানির জন্য শরিক নির্বাচনের সময় যতটা সম্ভব সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত হালাল উপার্জন এবং বিশুদ্ধ নিয়তের সমন্বয়ে ইবাদত সম্পন্ন করা।

পরিশেষে, কোনো শরিকের অর্থের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কারো কোরবানি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা উচিত নয়। যদি কারো আয়ের ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে হারাম হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবেই কেবল তার সাথে শরিক হওয়া থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। আল্লাহ তাআলা আমাদের ইবাদত কবুল করুন এবং হালাল উপার্জনে কোরবানি করার তাওফিক দান করুন।

banner
Link copied!