কোরবানির পশু কেনার পর সেটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ইচ্ছা অনেকেরই থাকে। এই প্রয়াসে অনেকেই পশুর লোম ছাঁটেন কিংবা সৌন্দর্যের জন্য শরীরের বিভিন্ন অংশ পরিচর্যা করেন। তবে কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশুর পূর্ণতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখা শরিয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই অহেতুক লোম ছাঁটা বা অঙ্গ কাটার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক।অপ্রয়োজনে পশুর লোম বা অঙ্গ ছাঁটা মাকরুহ।
ফিকহবিদদের মতে, কোরবানির পশুকে অক্ষত ও ত্রুটিমুক্ত রাখা শরিয়তের নির্দেশনা। ফতোয়ায়ে শামিতে উল্লেখ আছে, কোরবানির পশুর লোম কাটা বা শরীরের কোনো অংশ ছাঁটা মাকরুহ বা অপছন্দনীয় কাজ। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, যদি কেউ ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত এমনটা করে ফেলেন, তবে ওই পশমের বাজারমূল্য গরিবদের মাঝে সদকা করে দেওয়া উচিত।ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়।
রাসুলুল্লাহ (স.) কোরবানির পশুর ত্রুটির ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সুনানে আবু দাউদের এক হাদিসে বলা হয়েছে, কানা, প্রকাশ্য অসুস্থ, স্পষ্ট খোঁড়া এবং মজ্জাহীন দুর্বল পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়। এ কারণে ফকিহরা মনে করেন, যে কাজে পশুর সৌন্দর্য নষ্ট হয় কিংবা স্পষ্ট ত্রুটি সৃষ্টি হয়, তা শরিয়তসম্মত নয়।
চিকিৎসার প্রয়োজনে বিধানটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
পশুর শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে কিংবা সুস্থতার জন্য লোম কাটার প্রয়োজন পড়লে তা অবশ্যই জায়েজ। শরিয়ত সব সময় পশুর সুস্থতা ও কল্যাণের প্রতি গুরুত্ব দেয়। তাই চিকিৎসার প্রয়োজনে পশম কাটলে কোনো গুনাহ হবে না এবং এক্ষেত্রে সদকা করারও প্রয়োজন নেই।ভুলবশত কেটে ফেললে করণীয়।
যদি কেউ না বুঝে বা ভুলবশত কোরবানির পশুর লোম কেটে ফেলেন, তবে কোরবানি বাতিল হবে না। তবে সচেতন মুমিন হিসেবে সাবধানতা অবলম্বন করাই শ্রেয়। ফকিহদের পরামর্শ অনুযায়ী, কাটা অংশের সমপরিমাণ মূল্য সদকা করে দিলে তা ত্রুটি মার্জনার উপায় হতে পারে।পশুর যত্ন নেওয়াও একটি ইবাদত।
কোরবানির পশুকে উত্তম খাবার দেওয়া এবং কষ্ট না দেওয়া একজন মুমিনের দায়িত্ব। পবিত্র কুরআনের সুরা হজের ৩৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, এগুলোর গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। তাই পশুর অহেতুক কাটাছেঁড়া থেকে বিরত থেকে তাকওয়া অর্জন করাই আসল ইবাদত।
সবশেষে, শরিয়তের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা। কোরবানির পশু পরিচর্যায় বাড়তি সতর্কতা আমাদের আমলকে আরও শুদ্ধ করবে। আমরা যেন পশুর প্রতি সদয় হই এবং অহেতুক সৌন্দর্য নষ্ট না করে তাকে সুস্থ ও সবল রেখে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করি।
