শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের হুঁশিয়ারি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৬, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের হুঁশিয়ারি

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর বোর্ড অব গভর্নরসের বিশেষ বৈঠকে নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরান সতর্ক করেছে যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো বা এই ধরণের হামলাকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা বৈশ্বিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি তৈরি করবে।

আইএইএ বোর্ড অব গভর্নরসের এই বিশেষ অধিবেশনে ইরানের প্রতিনিধি দল তাদের পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে। তারা অভিযোগ করে যে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ধরনের স্থাপনার ওপর যতগুলো হামলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ছিল তার মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও নজিরবিহীন। ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই হামলার বিষয়ে দৃঢ় এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তেহরানের মতে এ ধরনের আগ্রাসন বন্ধ না হলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানি প্রতিনিধিরা ১৯৮১ সালে ইরাকের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তারা উল্লেখ করেন যে অতীতে আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরস এবং সাধারণ সম্মেলনে গৃহীত অনেকগুলো প্রস্তাবে নিরাপত্তা তদারকির আওতাধীন স্থাপনায় হামলা বা হামলার হুমকিকে জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ইরান দাবি করেছে যে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং রমজান যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মোট ১৭ দফা হামলা চালিয়েছে নিরাপত্তা তদারকির আওতাভুক্ত স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে।

ইরানি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বুশেহর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের নিকটবর্তী হামলার ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী হামলাটি রিয়্যাক্টর থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার দূরে আঘাত হেনেছিল, যার ফলে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছিল। আইএইএর মহাপরিচালক পূর্বেই বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি হামলার সম্ভাব্য বিপর্যয় সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী এ ধরনের হামলা পরিবেশে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারত। প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরান এখন এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।

banner
Link copied!