মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ইরান ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের মধ্যেই ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে পেন্টাগনের ভেতরে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এই আশঙ্কা দানা বেঁধেছে যে তারা নিজেরাই ইসরায়েলের নজরদারির লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিআইএ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রে হুমকির স্তরকে সর্বোচ্চ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উন্নীত করেছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে।
ইসরায়েল সফরে যাওয়ার সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য এখন কঠোর সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বার্নার ফোন বা একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন ব্যবহার, সাময়িক কম্পিউটার এবং যোগাযোগ রক্ষায় কঠোর বিধিমালা অনুসরণ করা। উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তারা হোটেলের কক্ষ বা অন্যান্য স্পর্শকাতর স্থানে কোনো ধরনের সংবেদনশীল আলোচনা করা থেকে বিরত থাকছেন। ডিআইএ গত কয়েক সপ্তাহে সাত পৃষ্ঠার একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি এবং প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতাকে মার্কিন স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং এ সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ইসরায়েল আগ্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রতিরক্ষা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমিলি হার্ডিং এ প্রসঙ্গে বলেন, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে তারা অত্যন্ত আগ্রাসী হিসেবে বিবেচনা করেন। মার্কিন সরকারের কার্যক্রমের ওপর তাদের গভীর আগ্রহ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে দাবি করেন, এ ধরনের তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইসরায়েল কখনোই মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালায় না এবং তাদের অভিযান শুধুমাত্র শত্রুপক্ষকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও প্রতিবেদনটিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যকার মতপার্থক্য এখন স্পষ্ট। ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তির পথ খুঁজছেন, অন্যদিকে নেতানিয়াহু তেহরানের ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই মতপার্থক্যের কারণে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সীমিত পরিসরে তথ্য আদান-প্রদান বা নজরদারি অস্বাভাবিক নয়। তবে বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের ক্ষেত্রে এই তৎপরতা সাধারণ কূটনৈতিক সীমানা অতিক্রম করেছে। ইরান ইস্যুতে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়টি দুই দেশের মধ্যকার আস্থার সংকটের একটি নতুন মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
