শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চরম সংকটে ইসলাম: আত্মহনন বা অনৈতিকতা কোনো সমাধান নয়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৬, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

চরম সংকটে ইসলাম: আত্মহনন বা অনৈতিকতা কোনো সমাধান নয়

ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী জীবন আল্লাহর আমানত। কোনো পরিস্থিতিতেই আত্মহত্যার পথ অবলম্বন করা বৈধ নয়। ঋণ বা চরম দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া স্পষ্টতই হারাম। কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন, তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। এই আয়াতটি আত্মহত্যার যেকোনো রূপকে নিষিদ্ধ করে। একই সাথে, সংকট থেকে মুক্তির জন্য অনৈতিক বা অসামাজিক পথ অবলম্বন করাও ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে পতিতাবৃত্তি বা কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। সূরা আল-ইসরা-এর ৩২ নম্বর আয়াতে ব্যভিচারের পথে যেতে বারণ করা হয়েছে। সমাজ ও পরিবারের বিপর্যয় এড়াতে ইসলাম সবসময় হালাল উপার্জনের ওপর জোর দেয়। যদি কোনো অভিভাবক ঋণ পরিশোধের অজুহাতে তার সন্তান বা অধীনস্থ কাউকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করতে চান, তবে সেই নির্দেশ পালন করা শরীয়াহ অনুযায়ী অবৈধ। সহীহ বুখারির ৭১৪৫ নম্বর হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে যে, অসৎ কাজে আনুগত্য করা যাবে না; আনুগত্য কেবল সৎকাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে করণীয় হলো ধৈর্য ধারণ করা এবং হালাল উপায়ের সন্ধান করা। নিজের বা পরিবারের কারো ওপর জুলুম না করে আলেম-উলামা বা বিশ্বস্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ইসলামের দৃষ্টিতে হতাশা বা নিরাশ হওয়া ঈমানদারদের জন্য নয়। সূরা আজ-জুমার ৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন এবং তার রহমতের ওপর ভরসা করতে বলেছেন। অতীতে কোনো অন্যায় বা পাপের সাথে জড়িয়ে পড়লে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। বরং আন্তরিকভাবে তওবা করা, অন্যায় সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং হালাল জীবিকার দিকে ফিরে আসাই হলো শরীয়াহর নির্দেশ। ইসলাম মানুষকে হতাশ হতে শেখায় না, বরং যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক, হারাম পথের পরিবর্তে হালাল পথ খোঁজার চেষ্টা করা এবং আল্লাহর রহমতের ওপর অটল থাকার শিক্ষা দেয়।

banner
Link copied!