নরওয়ে দীর্ঘ আঠাশ বছরের ফুটবলীয় খরা কাটিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এই অর্জনের নেপথ্যে রয়েছে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা এরলিং হলান্ডের অসামান্য অবদান। ১৯৯৮ সালের পর থেকে নরওয়ে ফুটবল দল বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। তবে এরলিং হলান্ড তার কাঁধে এই বিশাল দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন এবং তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। বাছাইপর্বের আটটি ম্যাচে ষোলোটি গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্ট্রাইকার হিসেবে গণ্য করা হয়।
এরলিং হলান্ডের জন্ম ইংল্যান্ডের লিডসে। তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হলান্ড সেই সময় লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলতেন। জন্মসূত্রে হলান্ড চাইলে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেতেন। তবে তিনি তার শিকড় এবং নিজের দেশের প্রতি টান অনুভব করতেন। তিনি নরওয়ের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে দেশটির ফুটবল ভাগ্য যেন নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে শুরু করে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ক্লাব ফুটবলে প্রায় প্রতিটি শিরোপা জেতা এই খেলোয়াড় এখন জাতীয় দলের হয়েও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছেন।
নরওয়ের জনসংখ্যা মাত্র পঁচিশ লক্ষের কিছু বেশি। এত অল্প জনসংখ্যার একটি দেশ থেকে বিশ্বমানের ফুটবলার উঠে আসা সত্যিই বিস্ময়কর। নরওয়ের ফুটবল সাংবাদিক আন্দ্রেয়াস করসুন্দ বিবিসি স্পোর্টকে জানিয়েছেন যে, হলান্ড নরওয়ের কাছে এক অনন্য নাম। তার শিকড়ের প্রতি তার টান এবং নিজ দেশের মানুষের সাথে তার সম্পৃক্ততা দেশটির তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে। তিনি অবসর নেওয়ার পর তার গ্রামে খামার করার পরিকল্পনা নিয়ে আগেও কথা বলেছেন, যা তার মাটির প্রতি ভালোবাসার পরিচয় বহন করে।
হলান্ডের মা ব্রাউত এর পারিবারিক নামটিও তিনি তার জার্সিতে ব্যবহার করেন। নরওয়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের পারিবারিক নাম যুক্ত করা হয়। এরলিং ব্রাউত হলান্ড হিসেবে পরিচিত এই ফুটবলার এখন পুরো নরওয়ের ভরসার প্রতীক। বাছাইপর্বের কঠোর লড়াই শেষে তারা চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। ইরাকের বিপক্ষে ১৬ জুন তাদের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। পুরো দেশ এখন তাদের এই সুপারস্টারের দিকে তাকিয়ে আছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এরলিং হলান্ডের উপস্থিতি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে। গত তিন দশকে নরওয়ে এমন অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় পেয়েছে যারা বড় টুর্নামেন্টে খেলার স্বপ্ন পূর্ণ করতে পারেননি। মর্টেন গামস্ট পেডারসেন কিংবা জন আর্ন রিসের মতো খেলোয়াড়দের সেই স্বপ্ন এখন হলান্ড এবং তার প্রজন্মের হাত ধরে বাস্তব রূপ পেয়েছে। ইরাকের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের অপেক্ষায় থাকা নরওয়ে এখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত। হলান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে কতটা দূর যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
