সোমবার ভোরে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে একটি শক্তিশালী ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্যানুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে এই শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ১৩০ ছাড়িয়ে গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় উপকূলীয় অঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে এবং জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাও দ্বীপের সারভাঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে ৩২ কিলোমিটার পশ্চিমে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৩ কিলোমিটার নিচে। সকালের দিকে এই কম্পন অনুভূত হওয়ার সময় স্থানীয়রা স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর প্রায় ১৩৮টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চটির মাত্রা ছিল ৬.৭। এই தொடর কম্পনের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধার কাজ পরিচালনা করতে বেগ পেতে হয়।
ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে। উত্তর সুলাওয়েসি ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূলের বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা এবং অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও তাদের উপকূলে সুনামির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা জারি করেছে।
ফিলিপাইনের জেনারেল সান্তোস সিটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে একটি শপিং মলের অংশ ধসে পড়েছে এবং বেশ কিছু ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রচারিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, শহরের একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁসহ বেশ কিছু স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালে রোগীদের সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ধসে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সারভাঙ্গানি প্রদেশের বিভিন্ন দোকানে ফাটল এবং রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র মিন্দানাওতে দ্রুত দুর্যোগ মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের উপকূল ছেড়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী তাদের দুর্যোগ মোকাবিলা ইউনিটগুলোকে আক্রান্ত অঞ্চলে মোতায়েন করেছে।
এখন পর্যন্ত আহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছে কি না তা অনুসন্ধান করছেন। গত কয়েক বছরের মধ্যে ফিলিপাইনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ারের ওপর অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে নিয়মিত ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাত ঘটে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
