অনেকেই ইন্টারনেটের ধীরগতি নিয়ে অভিযোগ করেন এবং মনে করেন আইএসপি বা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিশ্রুত গতির চেয়ে কম ইন্টারনেট দিচ্ছে। সম্প্রতি প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, অনেক সময় আইএসপির সংযোগে সমস্যা থাকে না, বরং রাউটারের কিছু সেটিংস ইন্টারনেটের প্রকৃত গতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। রাউটারের নির্দিষ্ট কিছু সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে ইন্টারনেটের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
প্রথম যে সেটিংটি ইন্টারনেটের গতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে তা হলো ব্যান্ড স্টিয়ারিং। সাধারণত আধুনিক রাউটারে ২.৪ গিগাহার্জ এবং ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড মিলিয়ে একটিই ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক থাকে। রাউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় কোন ডিভাইস কোন ব্যান্ডে চলবে। কিন্তু অনেক সময় এটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুতগতির ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড থেকে ডিভাইসকে ধীরগতির ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডে পাঠিয়ে দেয়। ব্যবহারকারীরা যদি এই সেটিংসটি বন্ধ করে দুটি আলাদা নেটওয়ার্ক তৈরি করেন এবং প্রধান ডিভাইসগুলোকে ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডে যুক্ত করেন, তবে ইন্টারনেটের গতিতে তাৎক্ষণিক উন্নতি পাওয়া সম্ভব।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে তা হলো কিউওএস বা কোয়ালিটি অব সার্ভিস। এই ফিচারটি সাধারণত বিভিন্ন অ্যাপের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে অগ্রাধিকার দেওয়ার কাজ করে। তবে কিউওএস রাউটারের প্রসেসরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে, কারণ প্রতিটি ডেটা প্যাকেটকে এটি পরীক্ষা করে পাঠাতে হয়। বিশেষজ্ঞের মতে, কিউওএস নিষ্ক্রিয় করার ফলে রাউটারের নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স অনেকটা বেড়ে যায় এবং ডাউনলোড গতি আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়।
তবে সব রাউটারের ক্ষেত্রে এই সেটিংসগুলো পরিবর্তন করা জরুরি নয়। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বা আধুনিক রাউটারে এই ফিচারগুলো বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাই আপনার রাউটারে যদি ইন্টারনেটের গতি সবসময় পরিকল্পনার চেয়ে কম পাওয়া যায়, তবে এই দুটি সেটিংস পরিবর্তন করে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। এছাড়া নিয়মিত রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট রাখা এবং কম জনাকীর্ণ ওয়াইফাই চ্যানেল নির্বাচন করাও গতি বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত এই ছোট পরিবর্তনগুলো ইন্টারনেটের ব্যবহারকে অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত করে তুলতে পারে।
