ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশকেই অবিলম্বে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতির পর সোমবার আট জুন মধ্যপ্রাচ্যে এই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে হোয়াইট হাউজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সোমবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও ইরানকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি হামলা বন্ধ করার বার্তা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, দুই দেশই এখন তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে আগ্রহী এবং এ নিয়ে শান্তি আলোচনা চলছে। তবে আলোচনার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। এই বার্তাকে সংশ্লিষ্ট মহলে দুই দেশের ওপর মার্কিন প্রশাসনের রাজনৈতিক চাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরান গত রবিবার রাতে ইসরায়েল লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর জবাবে সোমবার ভোরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি এবং স্থাপনায় পাল্টা বিমান হামলা পরিচালনা করে। তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, তাদের এই সামরিক পদক্ষেপ ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি পরিকল্পিত জবাব। অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে যে তারা সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ঘটিয়েছে, তবে ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এই সংঘাত এখন কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সম্পৃক্ততা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির ওপর পড়বে এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় লেবাননের ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তান ও মিসরসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতাকারীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির দিকে নজর দিচ্ছে, যদিও স্থলভাগের বাস্তবতা সেই প্রচেষ্টাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষই স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়নি। যুদ্ধের এই নতুন মাত্রা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আহ্বান কতটা কার্যকরী ভূমিকা রাখবে, তা নির্ভর করছে ইরান ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
