সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা: দিল্লিতে এমপিদের গোপন বৈঠক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা: দিল্লিতে এমপিদের গোপন বৈঠক

ছবি : সংগৃহীত

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবার রাজধানী দিল্লিতেও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সফর চলাকালীনই একটি সূত্র দাবি করেছে, গত রোববার রাতে দিল্লির কোনো এক গোপন স্থানে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। এই বৈঠক এবং তৎসংলগ্ন রাজনৈতিক জল্পনা নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বৈঠক প্রসঙ্গে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সেখানে তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। এমনকি বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের তোলা একটি ছবিও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। একটি সূত্র দাবি করেছে, বৈঠকে উপস্থিত সাংসদদের মধ্যে দলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সংসদে তৃণমূলের অবস্থান এবং দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা নিয়ে সেখানে কথাবার্তা হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তৃণমূলের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত নারী সাংসদদের অনুমতি না নিয়েই ছবি তোলার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় তার দল ও এমপি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সোমবার সকালে তিনি দিল্লি থেকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সুখেন্দুশেখরের অভিযোগ, দলের অন্দরে দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দলের প্রতি ক্ষোভের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে তৃণমূলের পতন এক প্রকার অনিবার্য। সুখেন্দুশেখরের এই আকস্মিক পদত্যাগ এবং দিল্লির গোপন বৈঠকের খবর একই সময়ে আসায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে, তা নতুন কোনো বিষয় নয়। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই দলের একটি অংশ সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করে আসছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের ওপর আস্থা রাখলেও দলের অভিজ্ঞ নেতা এবং বিধায়কদের একটি অংশ সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। এই মতপার্থক্য এখন জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বহাল থাকলেও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনকে নিয়ে আসার পর থেকে অখুশির মাত্রা আরও বেড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূলের সংসদীয় দল ভাঙনের মুখে রয়েছে। এর আগেও রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূলের কয়েক জন বিধায়ক বিদ্রোহী ভূমিকা নিয়েছিলেন। এখন সেই একই ছায়া সংসদের ভেতরে দেখা যাচ্ছে। যদি সত্যিই তৃণমূলের বড় কোনো অংশ আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বা গণইস্তফা দেয়, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য তা বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। ইন্ডিয়া জোটে তৃণমূলের দরকষাকষির ক্ষমতাও এতে কমে যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিদ্রোহ কীভাবে সামাল দেন।

banner
Link copied!