সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মধ্য ইসরায়েলে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত, আহত পাঁচজন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

মধ্য ইসরায়েলে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত, আহত পাঁচজন

ছবি : সংগৃহীত

মধ্য ইসরায়েলে রোববার গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি পুলিশ এবং জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, এই ঘটনাটি অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাছে কালকিলিয়া শহরের নিকটে তিনটি ভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয়। পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির বয়স পঁয়ত্রিশ বছর এবং তিনি একজন ইসরায়েলি নাগরিক। জরুরি পরিষেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছাতে সক্ষম হলেও একজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোচাভ ইয়ার শহরের কাছে একটি পেট্রোল স্টেশনে দুজন আহত ব্যক্তির চিকিৎসা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা বেশ গুরুতর।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, পুলিশ সদস্যরা ঘটনার পরপরই এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং ব্যাপক তল্লাশি চালায়। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী এক হামলাকারীকে শনাক্ত করে গুলি করে হত্যা করেছে। হামলাটি চালানোর জন্য একটি হাতে তৈরি সাবমেশিনগান বা কার্লো ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এই অস্ত্রটি সাধারণত এই অঞ্চলে সংঘটিত বিভিন্ন হামলায় ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। প্রথমে হামলার ঘটনায় একাধিক হামলাকারীর জড়িত থাকার আশঙ্কা করা হলেও, পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ঘটনার সঙ্গে কেবল একজনই জড়িত ছিল এবং তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ ইয়াল জামির অধিকৃত পশ্চিম তীরে অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশ জারি করেছেন। এর অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রাম অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং নিকটবর্তী সীমান্ত পারাপারের পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন গভির মন্তব্য করেছেন যে সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

পুলিশ বাহিনীর তথ্যমতে, তদন্ত এখনো চলছে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এলাকাটিতে টহল জোরদার করেছে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই হামলার পর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামরিক বাহিনীর অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।

banner
Link copied!