সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সোনার ট্রফির খোঁজে ক্রোয়েশিয়া: মদ্রিচের বিদায় বেলায় স্বপ্ন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

সোনার ট্রফির খোঁজে ক্রোয়েশিয়া: মদ্রিচের বিদায় বেলায় স্বপ্ন

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু দেশ আছে যাদের শক্তি শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। মাঠে নামার পর তারা নিজেদের সামর্থ্যের চেয়েও অনেক বেশি কিছু উপহার দেয়। ক্রোয়েশিয়া ঠিক তেমনই একটি নাম। মাত্র ৪০ লাখের কম জনসংখ্যার এই দেশটি গত তিন দশকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল ও ধারাবাহিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পর থেকেই তারা বারবার প্রমাণ করেছে যে ফুটবলে সাফল্যের জন্য বিপুল জনসংখ্যা বা অঢেল সম্পদের প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন প্রতিভা, মানসিক দৃঢ়তা এবং সঠিক পরিকল্পনা। ফ্রান্স বিশ্বকাপে অভিষেকেই তৃতীয় স্থান অর্জন করে বিশ্বকে বিস্মিত করা এই দলটি ২০১৮ সালে ফাইনালে এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন করে তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।

এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কোচ জালাতকো দালিচের। ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি দলটিকে এমন এক মানসিকতা শিখিয়েছেন, যেখানে প্রতিটি ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার অদম্য ইচ্ছা দেখা যায়। দালিচের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য তৈরি করা। এবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে লুকা মদ্রিচ, ইভান পেরিসিচ ও আন্দ্রেই ক্রামারিচের মতো অভিজ্ঞ যোদ্ধাদের পাশাপাশি লুকা ভুশকোভিচ ও ইগর মাতানোভিচের মতো উদীয়মান তারকারা সুযোগ পেয়েছেন। বাছাইপর্বেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। আটটি ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে জয় এবং মাত্র একটি ড্র নিয়ে তারা অপরাজিত থেকে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগে নেতৃত্বের ভার থাকবে জোশকো গভার্দিওলের ওপর। ইউরোপের অন্যতম সেরা এই তরুণ ডিফেন্ডার তার গতি ও ট্যাকলিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের আক্রমণের ধার কমিয়ে দিতে সক্ষম। গোলবারের নিচে ডমিনিক লিভাকোভিচ কাতারের মতো এবারও বড় ভরসার নাম। তবে দলের প্রাণশক্তি এখনো তাদের মাঝমাঠ। বয়স ৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছালেও লুকা মদ্রিচ এখনো দলের হৃদস্পন্দন। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলা ভার। মাতেও কোভাচিচের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া এই গ্রুপকে যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তির নাম তাদের মানসিক দৃঢ়তা। অতীতে অনেক ম্যাচে তারা পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছে। নকআউট পর্বে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে জয়ের অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে তাদের। বড় টুর্নামেন্টে চাপ সামলানোর এই অভিজ্ঞতা অন্য অনেক দলের চেয়ে তাদের এগিয়ে রাখে। তবে দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের বয়সের বিষয়টি কোচ দালিচের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে টানা উচ্চগতির ম্যাচ খেলতে হলে ফিটনেস বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আবেগঘন গল্প হতে পারে লুকা মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপ যাত্রা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় সবকিছুই জিতেছেন কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো তার হাতছোঁয়া থেকে দূরে। তাই এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে তার এবং ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকদের প্রত্যাশা অন্যবারের চেয়ে অনেক বেশি। যদি মদ্রিচের নেতৃত্বে ক্রোয়েশিয়া প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিততে পারে, তবে সেটি কেবল একটি জয় নয়, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম রূপকথার গল্প হয়ে থাকবে। সব বাধা পেরিয়ে ক্রোয়াট বাহিনী এখন প্রস্তুত তাদের শেষ মিশন সফল করতে।

banner
Link copied!