সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পিয়ংইয়ং সফরে শি জিনপিং: চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের নতুন মোড়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

পিয়ংইয়ং সফরে শি জিনপিং: চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের নতুন মোড়

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছেছেন। দুই দিনের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। গত সাত বছরের মধ্যে এটিই তার প্রথম পিয়ংইয়ং সফর। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিপরীতে এই সফরকে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রয়টার্স ও আল জাজিরার তথ্যমতে, এই সফর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের ইতিহাস বেশ গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী। পঞ্চাশের দশকের কোরিয়া যুদ্ধের সময় থেকেই বেইজিং পিয়ংইয়ংকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ১৯৬১ সালে দুই দেশ ‘ফ্রেন্ডশিপ, কোঅপারেশন অ্যান্ড মিউচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যার আওতায় উত্তর কোরিয়ায় কোনো আক্রমণ হলে চীন সামরিকভাবে সহায়তা করতে বাধ্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই সম্পর্ক বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পার করেছে। তবে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে বেইজিংয়ের কাছে পিয়ংইয়ংয়ের গুরুত্ব কখনোই কমেনি।

বিগত বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চীনের অবস্থান বেশ সতর্ক ছিল। চীন অতীতে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক পরীক্ষার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তবে ২০১৮ সাল থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। বেইজিং এখন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে বিশেষ আগ্রহী। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার সাথে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে চীনের ভেতরে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও বেইজিং তাদের এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশীকে হাতছাড়া করতে রাজি নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে আগের চেয়ে কিছুটা বেশি নমনীয় জায়গা পেয়েছে। শি জিনপিংয়ের এই সফর বেইজিংয়ের সেই পুরনো বার্তাটিই মনে করিয়ে দেয় যে, রাশিয়া হয়তো উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে কিন্তু চীনের ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্বের বিকল্প নেই। দুই দেশের এই শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা তাই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবশেষে, এই সফর কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বিষয় নয়, বরং এটি এশীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব বলয় বজায় রাখার একটি কৌশল। উত্তর কোরিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা বেইজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। আগামী দিনগুলোতে এই দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বিশ্বনেতারা।

banner
Link copied!