২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফুটবল বিশ্ব। তবে মাঠের লড়াই শুরুর অনেক আগেই রাজনীতির গোলকধাঁধায় বন্দি হয়ে পড়েছে এই মহাযজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক হওয়ার পর থেকে দেশটির অভিবাসন নীতি ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মতো বিতর্কিত ইস্যুগুলো ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনীতির এই উত্তাপ খেলার ময়দানকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম করেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া আসরটি কেবল মাঠের নৈপুণ্যের প্রদর্শনী নয়, বরং ভূ-রাজনীতির এক বড় পরীক্ষার মঞ্চ। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ছায়া পড়েছে বিশ্বকাপের ওপর। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের দামামা ফুটবলের ঐক্যের স্লোগানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ফুটবলের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সাধারণত রাজনীতিকে খেলার বাইরে রাখতে চাইলেও বাস্তব পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা।
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রে চলমান গণ-নির্বাসন অভিযান এবং সীমান্তে কড়াকড়ি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে সমালোচনা। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অংশগ্রহণকারী ও দর্শকরা এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ফুটবল মানেই যেখানে মানুষের মিলনমেলা, সেখানে এই ধরনের কঠোর নীতি বিশ্বকাপের মূল সুরের পরিপন্থী বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
অর্থনৈতিকভাবে এই আয়োজন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হলেও এর পেছনের মানবাধিকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এক দিকে মুনাফার হাতছানি, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি। মাঠের লড়াই শুরুর আগে এই বিতর্কগুলো কতটা স্তিমিত হবে, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিফা এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ফুটবল ও রাজনীতির এই দ্বৈরথ দিন দিন বাড়ছেই। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আসরে শেষ পর্যন্ত ফুটবলই জয়ী হবে, নাকি রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হয়ে থাকবে—তা এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। বিশ্ববাসী আশা করছে, সব বিতর্ক ছাপিয়ে মাঠের ফুটবলই হবে মূল আকর্ষণ।
