মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

ঐতিহাসিক জয়ে আফগানিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিল ভারত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

ঐতিহাসিক জয়ে আফগানিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিল ভারত

ছবি : সংগৃহীত

ক্রিকেট বিশ্ব সাক্ষী হলো ভারতের এক রাজকীয় রেকর্ডের। সোমবার ৮ জুন ২০২৬ তারিখে নিউ চণ্ডীগড়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টে এক ইনিংস ও ৩০০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ভারত। এটি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে টিম ইন্ডিয়ার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ২৭২ রানে হারানোর যে রেকর্ডটি ছিল, তা ছাপিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এই জয়। এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে মহানায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ২৩ বছর বয়সী তরুণ বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথার। ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি ছিল এক নতুন নক্ষত্রের উত্থান।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে ভারত। দলের ব্যাটাররা প্রথমে রানের পাহাড় গড়ে তোলেন। ৮ উইকেটে ৫৬৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করার পেছনে ছিল অধিনায়ক শুভমান গিলের ১২৬ এবং ওপেনার কেএল রাহুলের ১০০ রানের দুটি ধ্রুপদী ইনিংস। এই রানের বিশাল চাপে আফগানিস্তান প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৫২ রানে। ফলো-অন করতে বাধ্য হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তাদের ব্যাটিং বিপর্যয় অব্যাহত থাকে। দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানরা মাত্র ১১২ রানেই খড়কুটোর মতো উড়ে যায়।

নিজের অভিষেক ম্যাচেই বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথার দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ৭টি উইকেট শিকার করেছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩৩ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে তিনি একাই ধসিয়ে দেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং মেরুদণ্ড। ২০১১ সালে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের পর প্রথম ভারতীয় হিসেবে অভিষেক টেস্টের এক ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়লেন এই তরুণ। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে সুথার বিনম্রভাবে জানান যে, সঠিক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল ফেলাই ছিল তার মূল পরিকল্পনা। তার এই দুর্দান্ত স্পেলের কারণেই ভারত ম্যাচটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানদের মাথা তুলে দাঁড়াতে দেননি ওয়াশিংটন সুন্দর ও কুলদীপ যাদব। সুন্দর যখন টপ অর্ডারকে চা-বিরতির আগেই কুপোকাত করেন, তখন কুলদীপ পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে আফগানদের ইনিংসের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন। ইনজুরির কারণে আফগান ব্যাটার শরফুদ্দিন আশরাফ মাঠে নামতে না পারায় ১১২ রানেই ইতি ঘটে তাদের লড়াইয়ের। ম্যাচ শেষে আফগান অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শাহিদী আক্ষেপ করে জানান যে ভারতের কন্ডিশনে খেলা সবসময়ই কঠিন এবং তাদের জন্য এটি বড় শিক্ষা। চাপের মুখে কীভাবে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করতে হয়, তা নিয়ে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন তিনি। ভারতের এই বিশাল জয়ে আনন্দিত পুরো দেশ।

banner
Link copied!