ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার প্রস্তুতকারক কোম্পানি এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে মেটা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, এনএসও গ্রুপ এমন একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ লঙ্ঘন করেছে, যা তাদের হোয়াটসঅ্যাপ এবং এর ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে কোনো ধরনের তৎপরতা চালানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। সোমবার মেটা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তাদের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে নতুন করে স্পিয়ার ফিশিং বা আড়িপাতার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, যার সাথে সরাসরি এনএসও গ্রুপের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য যে, এনএসও গ্রুপ ইতিমধ্যেই মার্কিন সরকারের কালোতালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে মার্কিন সরকার এই কোম্পানিটিকে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে রেখেছে। মেটা এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, এই নতুন আড়িপাতার প্রচেষ্টাগুলো আগের মতোই ওয়ান-ক্লিক ফিশিং কৌশলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই পদ্ধতিতে ক্ষতিকারক লিংকে ক্লিক করানোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করতে অপরাধীরা বিভিন্ন লিংকে ক্লিক করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে, যা সরাসরি তাদের ডিভাইস বা অ্যাকাউন্টের ব্যক্তিগত তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার তৈরি করে।
মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে এনএসও গ্রুপের তৈরি করা ভুয়া অ্যাকাউন্ট এবং গ্রুপগুলো শনাক্ত করে তা বন্ধ করা হয়েছে। এনএসও গ্রুপের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে থেকেই এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা পেগাসাস নামক হ্যাকিং টুল ব্যবহার করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে। গত বছর মার্কিন আদালত এনএসও গ্রুপকে মেটার হোয়াটসঅ্যাপ প্ল্যাটফর্ম লক্ষ্য করে কোনো ধরনের নজরদারি বা আড়িপাতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ অমান্য করাকেই আদালত অবমাননা হিসেবে দেখছে মেটা।
আইনি লড়াইয়ে মেটার অবস্থান শক্তিশালী করতে এবার ১২টি প্রভাবশালী নাগরিক অধিকার সংস্থা এবং নিরাপত্তা গবেষকদের একটি জোট এগিয়ে এসেছে। তারা মেটার এই আইনি পদক্ষেপের সমর্থনে আদালতে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছে। এনএসও গ্রুপ এই স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার চেষ্টা করলেও, এই জোট এবং মেটার সম্মিলিত প্রচেষ্টা সেটিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। প্রযুক্তি জগতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাইবার অপরাধ দমনে মেটার এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপের এই তৎপরতা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। বিশ্বজুড়ে লক্ষ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় এনএসও গ্রুপের মতো স্পাইওয়্যার কোম্পানির বিরুদ্ধে এই আইনি যুদ্ধ একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সেখানে মেটার এই কঠোর অবস্থান ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আদালতের রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো প্রযুক্তি বিশ্ব।
