সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই দিনের শুরু করেন তাজা ফল দিয়ে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে এটি নিয়মিত অভ্যাসের অংশ। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, খালি পেটে ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে কি না। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিষয়টি সরাসরি নির্ভর করে ফলের ধরন, পরিমাণের ওপর এবং ব্যক্তির শারীরিক পরিস্থিতির ওপর। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদদের বরাতে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ফলের মধ্যে থাকে ফ্রুক্টোজ নামক প্রাকৃতিক চিনি। এটি শরীর বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে শক্তির জোগান দেয়। পুষ্টিবিদদের মতে, খালি পেটে ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা বাড়া খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এর মানে এই নয় যে ফল খাওয়া ক্ষতিকর। সঠিক উপায়ে খেলে ফল ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত ফলের আঁশ বা ফাইবার রক্তে শর্করার শোষণের গতি ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ হঠাৎ রক্তে মিশে যেতে পারে না।
সব ফল শরীরে একই প্রভাব ফেলে না। বিশেষজ্ঞরা ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই-এর দিকে নজর দিতে পরামর্শ দেন। তরমুজ, পাকা কলা বা আনারসের মতো উচ্চ জিআই সম্পন্ন ফলে চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যায়। বিপরীতে আপেল, মাল্টা বা বিভিন্ন বেরিজাতীয় ফল শরীরের ওপর মৃদু প্রভাব ফেলে। ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত হবে উচ্চ জিআই যুক্ত ফল এড়িয়ে চলা বা খুব সীমিত পরিমাণে খাওয়া।
ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য শুধু ফল খাওয়ার চেয়ে সেটিকে অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন এক মুঠো বাদাম বা টক দইয়ের সঙ্গে ফল খেলে শর্করা শোষণের গতি নিয়ন্ত্রিত থাকে। এটি রক্তে গ্লুকোজের হঠাৎ ওঠানামা কমাতে সহায়তা করে। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফল খাওয়াই সবসময় শ্রেয়। কারণ রসে আঁশ থাকে না, ফলে চিনি সরাসরি রক্তে মিশে দ্রুত প্রভাব ফেলে। পরিমিত পরিমাণে ফল খেলে তা শরীরের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণ করে। সচেতনতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি। যেকোনো নতুন খাদ্যতালিকা শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
