সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

২০২৬ বিশ্বকাপ: তীব্র গরমে মাঠে খেলোয়াড়দের টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ১০:১০ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপ: তীব্র গরমে মাঠে খেলোয়াড়দের টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ

ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আসর ঘিরে ফুটবল বিশ্বের উত্তজনা তুঙ্গে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ফুটবলারদের তীব্র গরমের মধ্যে অনুশীলনের ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এবারের বিশ্বকাপে চরম তাপমাত্রা খেলোয়াড় ও দর্শকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ আসর।

ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন বা ডব্লিউডব্লিউএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের অন্তত এক-চতুর্থাংশ ম্যাচ প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উত্তাপ কেবল খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতাকে ব্যাহত করবে না, বরং মাঠের খেলায়ও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। ডব্লিউডব্লিউএ-এর গবেষকদের মতে, প্রায় ২৬টি ম্যাচ এমন পরিস্থিতিতে হতে পারে যেখানে তাপমাত্রা ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার বা ডব্লিউবিজিপিআই সূচকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি পৌঁছাবে। এই সূচকটি মূলত শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার সক্ষমতাকে পরিমাপ করে। এর মধ্যে প্রায় পাঁচটি ম্যাচ ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আল জাজিরার আবহাওয়া উপস্থাপক এভারটন ফক্স জানিয়েছেন, ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরুর পর এবারের আসরটি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে উষ্ণ। বিশেষ করে ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি এবং মেক্সিকোর ভেন্যুগুলোতে তাপমাত্রা গড়ে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। যদিও ডালাস, হিউস্টন ও আটলান্টার স্টেডিয়ামগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা বা এসি রয়েছে, তবে বিশ্বকাপের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ম্যাচ এমন ভেন্যুগুলোতে আয়োজন করা হবে যেখানে এই আধুনিক সুবিধা নেই। এর ফলে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকরাও তীব্র গরমে স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারেন।

খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নরওয়ে দল তাদের এক প্রীতি ম্যাচে বরফের কলার বা আইস কলার ব্যবহার করে শরীর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক হ্যারি কেন মনে করেন, সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই গরম খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। তবুও বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ কমছে না। ১৭টি ম্যাচে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকলেও ৯টি ম্যাচ এমন জায়গায় অনুষ্ঠিত হবে যেখানে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেই।

বিশ্বের তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে খেলার সময়সূচী এবং মাঠের পরিবেশ নিয়ে ফিফাকে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। খেলোয়াড়দের সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে বিরতি বাড়ানো বা দিনের শীতল সময়ে ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। খেলার মাঠে সুন্দর ফুটবলের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের সুস্থতা নিশ্চিত করাই এখন আয়োজকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সব বিতর্ক ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে কতটা সুষ্ঠুভাবে বিশ্বকাপ সম্পন্ন হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

banner
Link copied!