সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বয়স্ক স্কোয়াড নিয়ে হেক্সার লক্ষ্যে ব্রাজিল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

বয়স্ক স্কোয়াড নিয়ে হেক্সার লক্ষ্যে ব্রাজিল

ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে দলটি। কোচ কার্লো আঞ্চেলত্তির ঘোষিত ২৩ সদস্যের এই দলের গড় বয়স ২৯ বছর ৬ মাস, যা ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০১০ সালের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল একটি অভিজ্ঞ দল নিয়ে মাঠে নেমেছিল, তবে এবারের পরিসংখ্যান সেই রেকর্ডকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতি ঐতিহাসিকভাবে তরুণদের উদ্দামতা এবং মাঠের জাদুর ওপর দাঁড়িয়ে থাকলেও, আঞ্চেলত্তির এই দল সেই ধারার বিপরীতে গিয়ে এক নতুন দর্শনের জন্ম দিয়েছে।

এই দলে এমন অনেক খেলোয়াড় রয়েছেন যাদের শারীরিক গঠন এবং অভিজ্ঞতাই কোচ আঞ্চেলত্তির মূল অস্ত্র। ২৩ জনের এই স্কোয়াডে ১৫ জনই কাতার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়। ৩৪ বছর বয়সী নেইমার এই দলের অন্যতম বড় নাম, যিনি গত এক বছর কোচ আঞ্চেলত্তির পরিকল্পনায় খুব একটা ছিলেন না। ৩৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ওয়েভারটনকে দলে রাখার মাধ্যমে কোচ দলের অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী করেছেন। এছাড়া বর্তমান স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের গড় উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা আধুনিক ফুটবলের সেট-পিস এবং শারীরিক শক্তিনির্ভর খেলার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন।

ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগের সাতজন খেলোয়াড় এবারের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফ্ল্যামেঙ্গো এবং বোটাফোগোর মতো ক্লাবগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার কারণে অনেক তারকা খেলোয়াড় এখন দেশে ফিরছেন। তবে দলের মূল মেরুদণ্ড এখনো ইউরোপের বড় লিগগুলোতে খেলা খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরশীল। প্রিমিয়ার লিগসহ ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ লিগ থেকে মোট ১৭ জন খেলোয়াড় এই স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন। আঞ্চেলত্তি ইউরোপীয় ঘরানার কৌশল এবং লাতিন ছন্দের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছেন।

মাঠের খেলায় এই ব্রাজিল দল বল পজেশন ধরে রাখার চেয়ে বরং সরাসরি আক্রমণ বা কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভিনিসউইস জুনিয়রের অতিমানবীয় গতিকে কাজে লাগিয়ে আঘাত হানা তাদের অন্যতম কৌশল। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ব্রুনো গিমারেসকে এই দলের ইঞ্জিন হিসেবে ভাবা হচ্ছে। গিমারেসের পাশে লুকাস পাকেতা আক্রমণ ও মাঝমাঠের সংযোগ হিসেবে কাজ করবেন। রক্ষণভাগে যথারীতি মারকুইনহোস এবং গোলবারের নিচে অ্যালিসন বেকার দলের প্রধান স্তম্ভ।

১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড রায়ানের অন্তর্ভুক্তি আঞ্চেলত্তির কৌশলের এক বিস্ময়। শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া কঠিন হলেও, বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে তিনি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। দীর্ঘ চব্বিশ বছর ধরে বিশ্বকাপের ট্রফি থেকে বঞ্চিত ব্রাজিল এবার হয়তো মাঠের রোমান্টিকতা বিসর্জন দিয়ে জয়কেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে। আঞ্চেলত্তির এই নতুন ব্রাজিলীয় মডেল হেক্সা মিশন সফল করতে পারে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন সারা বিশ্বের ফুটবল ভক্তরা।

banner
Link copied!