পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় এক চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টার কারণে তিন শিশুসহ মোট দশজন ব্যক্তি গত ৬১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের কাছে থাকা ভারতীয় আধার কার্ড অনুযায়ী তারা ভারতের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত, তবুও তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটকে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী এবং তিনজন শিশু রয়েছেন। ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা হিসেবে শামসুল এবং তার পরিবারের পরিচয় পাওয়া গেছে। শামসুল দীর্ঘ দিন ধরে ভারতে সবজির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন। কয়েকদিন আগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে এবং শুক্রবার ভোরের দিকে পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। এরপর থেকে তারা সীমান্তের শূন্যরেখার ফসলি জমিতে অবস্থান করছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে পঞ্চগড় সীমান্তের স্থানীয়রা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যারা ভারতীয় নাগরিক এবং যাদের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র রয়েছে, তাদের এভাবে সীমান্তে ফেলে রাখা সম্পূর্ণ অমানবিক। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, যদি তাদের কাছে আধার কার্ড থাকে তবে তাদের দায়িত্ব ভারতেরই নেওয়া উচিত। তাদের এভাবে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে আটকে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত এই ঘটনার একটি মানবিক সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি তাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করার পর থেকে তারা সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে। নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে বিএসএফের সঙ্গে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছেন।
দীর্ঘ ৬১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কোনো ধরনের নিরাপদ আশ্রয় ও ছাউনি ছাড়াই ফসলি জমিতে অবস্থানের কারণে শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তাদের জীবন নিয়ে পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতিমালা ও মানবাধিকারের দৃষ্টিতে এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করছেন সচেতন মহল। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিজিবি তাদের অবস্থানে অনড় থেকে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ হতে দেবে না বলে জানিয়েছে।
