সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৮, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন অভিযোগ ও আইনি জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় এবার নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার হলেন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের একটি দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে।

নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝে জাহাঙ্গির খানের এই গ্রেফতারের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২১ মে ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার ৪৮ ঘণ্টা আগে জাহাঙ্গির খান আচমকাই নির্বাচনী লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, বিজেপি প্রার্থী বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন এবং তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গির খান চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের সময় থেকেই তিনি জনসমক্ষে আসেননি এবং তার কোনো খোঁজ মিলছিল না।

আইনি জটিলতা জাহাঙ্গির খানের জন্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে তিনি কিছুদিন আগে পর্যন্ত রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের পুনর্নির্বাচনের আগেও তিনি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু গত ২৬ মে আদালত তার সব জামিন প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে তার গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা অবশিষ্ট ছিল না। ভোটের সময় তার ‘ঝুকেগা নেহি’ সংলাপটি রাজ্য রাজনীতিতে বেশ আলোচিত হয়েছিল। সে সময় তার বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ফলতায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সংঘাত ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। সে সময় উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সে সময় স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার এবং ভোটারদের হুমকির বিষয়টি বেশ বড় ইস্যু হয়ে উঠেছিল। ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এবং নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি কার্যত লাপাত্তা ছিলেন। নেপাল সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময়ই এসটিএফের জালে ধরা পড়েন এই তৃণমূল নেতা।

বর্তমানে এই গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। রাজ্য পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে তৃণমূলের অন্দরেও এ নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং গ্রেফতারের ঘটনা আসন্ন দিনগুলোতে রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

banner
Link copied!