পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে একটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক অধিকার ও বিধানসভার প্রতিনিধিত্বের দাবিতে মঙ্গলবার একটি বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতির একদিন আগে সোমবার এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা। সংঘর্ষে পুলিশ ও বেসামরিক নাগরিকসহ আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি রায় দেয়, যেখানে বলা হয় কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং এগুলো কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী ছাড়া বাতিল করা যাবে না। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি নামক নিষিদ্ধ সংগঠনটি মঙ্গলবার সমাবেশের ডাক দেয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই শরণার্থীদের সংরক্ষিত আসনের বিরোধিতা করে আসছে এবং স্থানীয়দের জন্য অধিকতর রাজনৈতিক অধিকারের দাবি জানিয়ে আসছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, রোববার এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুঞ্চ সেক্টরের কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে পুলিশের চার সদস্য ও একজন পথচারী নিহত হয়েছেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাল্টা হামলায় ছয়জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ প্রধান লিয়াকত মালিক জানিয়েছেন, রবিবারের এই ঘটনায় ২৩ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ৫০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এ সময় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। হিমালয়বেষ্টিত এই অঞ্চলটিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
স্থানীয় পুলিশের ভাষ্যমতে, জেএএসি-র সশস্ত্র সমর্থকরা রাওয়ালकोट শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায় এবং পরে একটি সামরিক হাসপাতাল ঘেরাও করে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটায়। কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
জেএএসি নেতা শওকত নওয়াজ মির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন। তবে সরকারি কর্মকর্তারা এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার আঞ্চলিক সরকার জেএএসি-কে সন্ত্রাসী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর আগে গত দুই বছরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সংগঠনের আয়োজিত একাধিক বিক্ষোভ বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রূপ নিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও প্রশাসন মঙ্গলবার সকালের রালি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
