মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কেনিয়ায় ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নিয়ে বিক্ষোভ: উত্তপ্ত নানইউকি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৯, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

কেনিয়ায় ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নিয়ে বিক্ষোভ: উত্তপ্ত নানইউকি

ছবি : সংগৃহীত

কেনিয়ার নানইউকিতে মার্কিন সরকারের ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসন কেনিয়ার আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাইছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেনীয় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। মূলত গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলার সংক্রমণের ঝুঁকি কেনিয়ার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়েছে।

গত সপ্তাহে নানইউকিতে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। মার্কিন ও কেনীয় কর্তৃপক্ষের এই কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। লিকিপিয়া বিমানঘাঁটিতে এই ৫০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে যে, গত ২৭ মে থেকে সেখানে তাঁবু নির্মাণের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। অথচ কেনিয়ার আদালত এই কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ১৭ মে ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এবার যে স্ট্রেইনটি শনাক্ত হয়েছে তা বুনদিবুগিও স্ট্রেইন হিসেবে পরিচিত। জাইর স্ট্রেইনের তুলনায় এর চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ এখনো সহজলভ্য নয়। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দেশটির প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, ইবোলা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না। পশ্চিম আফ্রিকার গত প্রাদুর্ভাবের সময় মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, কিন্তু এবার সেই পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, নানইউকির এই কেন্দ্রটি মূলত তাদের সেই নাগরিকদের জন্য যারা ইবোলা আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন কিন্তু এখনো উপসর্গ দেখা দেয়নি। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই কেন্দ্রটি শেষ পর্যন্ত কেনিয়ার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। কেনিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা শুরুতে বলেছিলেন যে এই কেন্দ্রটি স্থানীয়দের সেবায় ব্যবহৃত হবে, তবে মার্কিন পক্ষ থেকে এর কোনো নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি। আকাশপথে সামরিক বিমান ব্যবহার করে কর্মী ও সরঞ্জাম আসা অব্যাহত রয়েছে, যা আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল বলে মনে করছেন অধিকারকর্মীরা।

banner
Link copied!