ইয়েমেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাঈন আব্দুল মালিক সাইদের মতে, তাইজের আশেপাশের পাহাড়গুলোতে পশ্চিমা নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হচ্ছে। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাইদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কাছে এই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরটির পতন ঘটলে তা হবে বিপর্যয়কর। তিনি উল্লেখ করেন, সেক্ষেত্রে লোহিত সাগরে কৌশলগত বাব আল মান্দাব প্রণালী এবং এডেন যাওয়ার রাস্তার নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যাবে।
মঙ্গলবার পশ্চিমা বিশ্বের কাছে আরও সহায়তার আবেদন জানিয়ে সাইদ বলেন, ইরানকে বিশৃঙ্খলা বিস্তারে সহায়তা করার জন্য হুথিরা যে পুরো ইয়েমেন দখল করতে চায়, সে বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই। তিনি স্বীকার করেন যে, সরকারি বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক প্রতিযোগিতা এবং হুথিদের দূরপাল্লার ড্রোনের বিপরীতে ধীরগতির প্রতিক্রিয়া তাঁর সরকার ও সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি জানান, আমাদের কেবল হালকা অস্ত্র রয়েছে এবং সৌদি আরব এই সংঘাতের প্রারম্ভিক পর্যায়ে এই ধরনের উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করেনি, তবে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করার সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি। হুথিদের নিয়ন্ত্রণ নিতে দিলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে পশ্চিমারা যেন গুরুত্ব সহকারে ভাবে—সেই তাগিদ তিনি দিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেখান যে, তা না হলে এই অঞ্চল কখনোই নিরাপদ হবে না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাইদ বলেন, তাইজের আশপাশের লড়াই কেবল তাইজ রক্ষার লড়াই নয়, বরং এটি পুরো পশ্চিমা বিশ্ব এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক প্রণালীর সঙ্গে জড়িত ব্যাপক পরিসরের যুদ্ধ। যদি তাইজের পতন ঘটে, তবে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে চলে যাবে এবং দেশটির বাকি অংশও তাদের অধিকারে চলে আসবে।
বর্তমানে হুথি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যকার প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হলো এই তাইজ। গত ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির সুবাদে চার বছর ধরে দেশটিতে তুলনামূলক শান্তি বিরাজ করছিল। কিন্তু বিদ্রোহীদের সামরিক অভিযানের কারণে গত মাসে সেই শান্তির অবসান ঘটে এবং তারা লোহিত সাগর উপকূলের দিকে এগিয়ে যায়। সাইদ জানান, গোয়েন্দা তথ্য বলছে হুথিরা ইতিমধ্যে লাহিঞ্জের আল সাবিহা এবং একপর্যায়ে এডেনসহ দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সাইদ আরও সতর্ক করেন যে, তাইজ শহর এবং এর ৫ লক্ষাধিক বাসিন্দার ওপর পূর্ণাঙ্গ অবরোধ যেকোনো দিন চলে আসতে পারে। তিনি শহরটিকে উপজাতীয় সংস্কৃতি থেকে মুক্ত আধুনিক ও গণতান্ত্রিক একটি স্থান হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, হুথিরা সেখানে দ্রুত জায়েদি শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, তাইজের পতন ঘটলে ইয়েমেনের আধুনিক রাষ্ট্রীয় ধারণা এবং উপজাতীয় নেটওয়ার্ক ও চরমপন্থী ধর্মীয় শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল হুথি প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেতনার ওপর অত্যন্ত গভীর প্রতীকী প্রভাব পড়বে।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর নির্বাসিত নেতা আইদারুস আল জুবাইদি মঙ্গলবার হুথিদের বিরুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলের সেনাদের একত্রিত হওয়ার ডাক দেন। পাশাপাশি তিনি আগামী দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার দাবিতে একটি গণভোটেরও দাবি জানান। এর ফলে বুধবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজপথে নেমে আসেন।
সাইদ বলেন, হুথিদের এই উপকূলীয় আক্রমণ এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন ইরানের ওপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গত এক দশকে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা এবং দরকষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এডেন বিমানবন্দরে নিক্ষিপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ২৮ জন নিহত এবং সাইদসহ ১০৭ জন আহত হন, যিনি সে সময় সদ্যই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
