শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

কবজির স্বাস্থ্য সুরক্ষা: দীর্ঘমেয়াদি বাত ঠেকানোর উপায়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

কবজির স্বাস্থ্য সুরক্ষা: দীর্ঘমেয়াদি বাত ঠেকানোর উপায়

কবজির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত না করলে আধুনিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি বাত ও পঙ্গুত্বের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয় বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে দৈনন্দিন কম্পিউটারে টাইপিং, স্মার্টফোন ব্যবহারের পুনরাবৃত্তিমূলক চাপ এবং অতীতের আপাতদৃষ্টিতে নিরাময় হওয়া আঘাত পরবর্তী জীবনে ভয়াবহ বাতের রূপ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে সেদেশের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সাতজনে অন্তত একজন কবজির ব্যথায় ভোগেন।

অস্থিসন্ধির এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে পুরো হাতের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে।

দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক অ্যান্ড্রু আবাদির জানিয়েছেন, কবজি কেবল একটি একক জোড়া নয় বরং আটটি ছোট কার্পাল হাড়, সামনের বাহুর দুটি দীর্ঘ হাড় এবং করতলের পাঁচটি হাড়ের এক জটিল সমন্বয়। তরুণ বয়সে হাত মচকে যাওয়া বা পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার বহু বছর পর অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা পোস্ট-ট্রমাটিক আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সারা লারসন গবেষণায় দেখিয়েছেন যে তরুণ বয়সের সাধারণ আঘাত আপাতদৃষ্টিতে সেরে গেলেও বিশ বছর পর তা গুরুতর যন্ত্রণার কারণ হতে পারে।

কবজিকে চিকিৎসকরা সামগ্রিক মানবদেহের স্বাস্থ্যের একটি প্রাথমিক সংকেতযন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করেন। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণ দেখা যায় কবজির অংশে। মানুষের মস্তিষ্কের কর্টেক্স অঞ্চলের একটি বড় অংশ হাতের আঙুল ও কবজির নিয়ন্ত্রণের সাথে যুক্ত থাকে, ফলে হাতের গ্রিপ বা মুষ্টির শক্তির মাধ্যমে স্নায়বিক স্বাস্থ্যের পরিমাপ করা সম্ভব হয়। ষাট বছর বয়সে যাদের কবজির স্থায়িত্ব ভালো থাকে, তাদের হাড়ের ক্ষয়রোগ বা পড়ে গিয়ে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বহুলাংশে কমে আসে।

খাদ্যাভ্যাসে ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের ভারসাম্য রক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থোপেডিক শল্যচিকিৎসকরা। সার্ডিন জাতীয় ছোট মাছ ও দুগ্ধজাত খাবার হাড়কে ভঙ্গুর হওয়া থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে ফেললেও অস্থিসন্ধির ওপর যান্ত্রিক চাপ কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের প্রধান পরামর্শ হলো নিয়মিত কয়েকটি সাধারণ শারীরিক অনুশীলনের মাধ্যমে কবজির প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

উম্মাহকণ্ঠ ডট কম অনুসন্ধান করে দেখেছে, কাঁধের পেশি শক্তিশালী করার মাধ্যমে কবজির ওপর চাপ অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব।

কারণ পুরো হাত একটি শিকলের মতো সম্মিলিতভাবে কাজ করে। গবেষকরা জানিয়েছেন, নরম বল বা চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত নরম সিলিকন জাতীয় বস্তু হাতের মুঠোয় পাঁচ থেকে দশ সেকেন্ড শক্ত করে চেপে ধরে ছেড়ে দিলে বাহুর পেশিগুলোর সহনশীলতা বহুগুণ বাড়ে। হালকা ওজন বা রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ডের সাহায্যে কবজিকে ধীরে ধীরে ওপরে ও নিচে বাঁকানোর ব্যায়াম হাড়ের অভ্যন্তরীণ ঘনত্ব বৃদ্ধি করে। টেবিলে হাত রেখে কবজিকে ডানে এবং বাঁয়ে ঘোরানোর চলন প্রক্রিয়া সারা দিনের একটানা কিবোর্ড ব্যবহারের চাপ প্রশমিত করে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে কোনো পূর্ব আঘাত বা জটিলতা থাকলে ব্যায়াম শুরুর আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।

banner
Link copied!