ঋতুচক্র অনুযায়ী ব্যায়াম পরিবর্তন করার সামাজিক মাধ্যম ট্রেন্ডের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা ও ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে। অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে শরীরচর্চার রুটিনকে ঋতুচক্রের চারটি ভিন্ন ধাপের সাথে সমন্বয় করার প্রচার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন যে এই ধরনের সাধারণীকরণমূলক নির্দেশিকা গবেষণালব্ধ সত্যের চেয়ে বাণিজ্যিক বিপণন কৌশলের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
সবার শারীরিক প্রতিক্রিয়া কখনোই এক নিয়মে চলে না।
যুক্তরাজ্যের লিডস বেকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কেলি ম্যাকনাল্টি জানিয়েছেন, ঋতুচক্রের বিভিন্ন সময়ে নারীদের ক্লান্তি বা শক্তির মাত্রায় তারতম্য অনুভূত হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক নারীকে নির্দিষ্ট ধাপে নির্দিষ্ট ধরনের শারীরিক কসরত করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি নারীর শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং হরমোনের প্রভাব সম্পূর্ণ আলাদা, যা এমনকি একই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রতি মাসে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে ইন্টারনেটভিত্তিক সাধারণ পরামর্শ মেনে ব্যায়ামের তীব্রতা কমানো বা বাড়ানো সবার জন্য কার্যকর হয় না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডক্টর ফে বেট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে নির্দিষ্ট ধাপে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে এমন পূর্বধারণা মানুষের কার্যক্ষমতায় নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে নোসিবো প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেখানে অমূলক আশঙ্কার কারণে কার্যক্ষমতা বাস্তবে হ্রাস পায়। তাছাড়া নারীদের জন্য হাড়ের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত ভারী ওজন উত্তোলনের প্রশিক্ষণ জরুরি, যা সামাজিক মাধ্যমের নিয়মে মাসের অর্ধেক সময় কমিয়ে দিলে শারীরিক শক্তির স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
উম্মাহকণ্ঠ ডট কম অনুসন্ধান করে দেখেছে, বহু নারী কোনো নির্দিষ্ট ছক না মেনে নিজেদের অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে স্বাভাবিক শরীরচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফিটনেস প্রশিক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে ঋতুস্রাবের সময়ও অনেকে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছেন। চিকিৎসকরা জোর দিয়েছেন যে কঠোর নিয়মের চেয়ে নিজের শরীরের সংকেত বুঝে বিশ্রাম নেওয়া অথবা স্বাভাবিক ব্যায়াম অব্যাহত রাখাই সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। সর্বশেষ চিকিৎসা মূল্যায়নে গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে মাত্রাতিরিক্ত ব্যথা বা ক্লান্তি থাকলে তা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
