রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

স্পেনে প্রমোদতরি থেকে যাত্রী স্থানান্তর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশংসা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১০, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

স্পেনে প্রমোদতরি থেকে যাত্রী স্থানান্তর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশংসা

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফে উপকূলে হ্যান্টাভাইরাস আক্রান্ত প্রমোদতরি এমএস হোন্ডিয়াস থেকে যাত্রী খালাস করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে রোববার ভোররাত থেকে এই জটিল উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জানিয়েছেন যে জাহাজে থাকা যাত্রীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোরভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযানের প্রথম ধাপে ১৪ জন স্পেনীয় নাগরিককে জাহাজ থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। দীর্ঘ লেন্সের ক্যামেরায় দেখা গেছে যে যাত্রীরা জাহাজের ডেকে সাদা মাস্ক পরে চলাফেরা করছেন এবং ছোট উদ্ধারকারী নৌকায় করে যখন তীরে আসছেন, তখন তারা একে অপরের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন। তীরে অপেক্ষমান চিকিৎসাকর্মী ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সাদা বিশেষ সুরক্ষা পোশাক বা পিপিই পরে যাত্রীদের গ্রহণ করছেন। এই প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের নাগরিকত্ব অনুযায়ী পৃথক দলে ভাগ করে বাসে করে স্থানীয় বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

স্পেনীয় নাগরিকদের পর নেদারল্যান্ডস, গ্রিস এবং জার্মানির যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলবে। যুক্তরাজ্যের যাত্রীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আগামী সোমবারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এই অভিযান শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে অভূতপূর্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা আতঙ্ক না ছড়ানো হয়। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে সাধারণ জনগণের জন্য ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত কম।

এমএস হোন্ডিয়াস গত এক মাস ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছিল এবং এর মধ্যেই জাহাজে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তেনেরিফের ক্যান্ডেলারিয়া হাসপাতালে কয়েক ডজন নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ বা আইসিইউ বিশেষজ্ঞকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। যদি কোনো যাত্রী স্থানান্তরের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে তাদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ আইসোলেশন বেড এবং ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক মার মার্টিন জানিয়েছেন যে তারা এই বিরল ভাইরাসের মোকাবিলা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস বর্তমানে তেনেরিফেতে অবস্থান করছেন এবং এই উদ্ধার অভিযান তদারকি করছেন। তিনি স্পেনের কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। হ্যান্টাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্তের একটি ময়লার ভাগাড়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাস সাধারণত মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয় না, তবে বিরল ‘আন্দিজ স্ট্রেইন’ মানুষের মাধ্যমে ছড়ানোর ক্ষমতা রাখে। জাহাজে থাকা ব্রিটিশ যাত্রীদের উইরালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে স্পেনীয় নাগরিকদের মাদ্রিদের গোমেজ উল্লা সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্তিকাল নয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে বলে কোয়ারেন্টাইনের সময়সীমা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

banner
Link copied!