দুপুরে বা রাতে ভারী খাবার খাওয়ার পর অনেকেই সরাসরি বিছানায় বা সোফায় গা এলিয়ে দেন। কর্মস্থলে থাকা মানুষেরা হয়তো ডেস্কে বসেই কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করেন। চিকিৎসকদের মতে, খাবার শেষ করেই বসে থাকা বা খাওয়ার পর শুয়ে পড়ার অভ্যাস মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। খাওয়ার পরপরই শরীর বিশ্রাম মোডে চলে গেলে পাকস্থলীর হজম প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতি অনেকটাই ধীর হয়ে যায়।এর ফলে খাবার থেকে উৎপন্ন গ্লুকোজ খুব দ্রুত রক্তপ্রবাহে মিশে ব্লাড সুগারের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়।
সুস্থ থাকতে ভারী খাবার গ্রহণের পর অন্তত ১৫ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই সামান্য শারীরিক নড়াচড়া পাকস্থলী ও অন্ত্রকে সচল করে হজম প্রক্রিয়ার দারুণ উন্নতি ঘটায়। ফলে খাবার শেষে হওয়া শারীরিক অস্বস্তি, পেটফাঁপা ও গ্যাস-অম্বলের মতো দৈনন্দিন সমস্যাগুলো স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে। গ্যাস্ট্রিকের রোগীরা খাওয়ার আগে নিয়মিত ওষুধ না খেয়ে খাবার পর নিয়ম করে হাঁটলে দীর্ঘমেয়াদে বেশি উপকার পান।
নিয়মিত হাঁটাহাঁটির ফলে শরীরের পেশিগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ইনসুলিনের সাহায্য ছাড়াই রক্ত থেকে সরাসরি গ্লুকোজ শোষণ করে নেয়। এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমায় এবং রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি বা সুগার স্পাইক সরাসরি প্রতিরোধ করে। বেশি মাত্রায় ইনসুলিন শরীরকে চর্বি পোড়াতে বাধা দেয় এবং মেদ জমিয়ে রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু হাঁটার অভ্যাস সেই বাধা দূর করে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে।
