বর্ষাকালে বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণে সৃষ্ট অস্বস্তি দূর করতে ঘরের এসি কোন মোডে চালানো উচিত সে সম্পর্কে শনিবার একটি বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে দিনাজপুর টিভি নিশ্চিত করেছে। আষাঢ়ের এই সময়ে আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ফলে ঘরের ভেতরের পরিবেশ বেশ ভ্যাপসা হয়ে ওঠে এবং শরীরে এক ধরণের অস্বস্তিকর ঘাম ও চিটচিটে ভাব দেখা দেয়। সাধারণ কুলিং মোডে এসি চালিয়েও অনেক সময় এই স্যাঁতসেঁতে ভাব থেকে কাঙ্ক্ষিত আরাম বা মুক্তি মেলে না। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সাধারণ তাপমাত্রার পরিবর্তনের চেয়ে ঘরকে শুষ্ক রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
লাইফস্টাইল ও ইলেকট্রনিক্স বিশেষজ্ঞরা এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ঘরের পরিবেশ সতেজ রাখতে বর্ষাকালে এসি ব্যবহারের নিয়ম হিসেবে ড্রাই মোড চালুর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন। এসির রিমোট কন্ট্রোলে থাকা কুল, ফ্যান বা অটো অপশনের পাশাপাশি ড্রাই নামক একটি বিশেষ অপশন থাকে যা মূলত জলীয় বাষ্প শোষণের কাজ করে। এই মোডটি চালু করলে এসি ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা খুব বেশি না কমিয়ে বাতাস থেকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা টেনে বের করে দেয়। ফলে ঘরের ভেতরের বাতাস দ্রুত শুষ্ক এবং শীতল হয়ে ওঠে যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে। রিমোটে সাধারণত একটি পানির ফোঁটার প্রতীক দিয়ে এই বিশেষ মোডটিকে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
এই বিশেষ মোডটি ব্যবহারের আরেকটি বড় ইতিবাচক দিক হলো এটি ঘরের বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। সাধারণ কুলিং মোডে ঘরের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমায় নামিয়ে আনার জন্য এসির কম্প্রেসারকে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা সচল থাকতে হয়। কিন্তু ড্রাই মোড সচল করা হলে কম্প্রেসারটি সাধারণ মোডের তুলনায় অনেক কম সময়ের জন্য চালু থাকে এবং শুধু ফ্যানটি সচল থাকে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন মাসের শেষে বিদ্যুতের বিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম আসে, অন্যদিকে যন্ত্রটির স্থায়িত্বও বৃদ্ধি পায়। তাই ঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা করার প্রয়োজন না হলে এই মোডটি চালানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
যা কম স্পষ্ট তা হলো, দেশের সাধারণ গ্রাহকদের কত বড় অংশ এই প্রযুক্তিগত সুবিধা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সঠিক ধারণা রাখেন এবং এটি নিয়মিত ব্যবহার করেন। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে মানুষ কেবল তাপমাত্রা কমিয়ে বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে ফেলেন কিন্তু ঘরের ভ্যাপসা ভাব দূর করতে পারেন না। প্রযুক্তিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন যে ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি এসি ফিল্টারটি নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত। আধুনিক ঘরগুলোতে বায়ুচলচলের সুব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার সময়ে ছত্রাক ও জীবাণুর আক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে যা এই শুষ্ক মোড ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। সুষম জীবনযাত্রার জন্য সঠিক নিয়মে গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
