সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ইয়েমেন সংঘাত

শাবওয়ায় সামরিক শিবিরে হাউছিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ১৮

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

শাবওয়ায় সামরিক শিবিরে হাউছিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ১৮

দক্ষিণ ইয়েমেনের একটি সামরিক শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জনের বেশি মানুষ। সোমবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।

ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশের আল-আলম সামরিক শিবিরে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হাউছি বিদ্রোহীরা। সরকারি বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, যখন এই হামলা চালানো হয় তখন সেখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়া চলছিল।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কর্মকর্তা এবং চিকিৎসাকেন্দ্রের সূত্রগুলো হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। শাবওয়ার উপ-গোভর্নর জানান, সব মিলিয়ে অন্তত ৪০ জন হতাহত হয়েছেন। তবে নিহত ও আহতের সুনির্দিষ্ট আলাদা হিসাব তিনি দেননি।

দেশজুড়ে চলমান তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত এলাকাগুলো থেকে সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে হাউছিরা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সৌদি আরবের সামরিক সহায়তায় সরকারি বাহিনী এই ভূখণ্ড হারানোর জবাবে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ২০১৪ সালে ইরানসমর্থিত গোষ্ঠীটির দখলে চলে যাওয়া রাজধানী সানা সহ অন্যান্য এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য তারা ইউয়েন ফজর বা ইয়েমেনের ভোর নামক অভিযান পরিচালনা করছে।

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্শাল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমী জানান, এই হামলায় নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সবাই নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। তিনি এই সংঘাত বৃদ্ধির কঠোর জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আল-আলিমী আরও বলেন, নতুন recruits বা প্রশিক্ষণার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে এটিই প্রমাণ হয় যে হাউছি মিলিশিয়ারা চাপের মুখে পড়লে সন্ত্রাসী হামলার পথ বেছে নেয়।

এদিকে হাউছি বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সৌদি সমর্থিত সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

হাউছি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের অবস্থানে তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। সৌদি সমর্থিত সামরিক উপস্থিত রয়েছে এমন যেকোনো স্থানকেই তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলে মনে করে।

এর আগে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী তাইজের দক্ষিণাঞ্চলের আল-আকরুদ, আল-শাকাব এবং আল-সারারি এলাকায় হাউছিদের জমায়েত, গাড়ি ও অস্ত্রভান্ডারে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল। তীব্র জ্বালানি সংকট ও আকাশছোঁয়া মূল্যের মধ্য দিয়েই বর্তমানে ওই অঞ্চলটি পার করছে।

banner
Link copied!