সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নেপালও ভারতের ভূখণ্ড দখল করে আছে: বালেন্দ্র শাহ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১, ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

নেপালও ভারতের ভূখণ্ড দখল করে আছে: বালেন্দ্র শাহ

শুধু ভারতই নেপালের জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেনি, বরং নেপালও বেশ কিছু স্থানে ভারতের ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে বলে এক অভূতপূর্ব মন্তব্য করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। রবিবার (৩১ মে) দেশের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই দাবি করেন। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধের অবসানে দুই দেশেরই অতি দ্রুত দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

বিশেষ করে হিমালয় অঞ্চলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর তিনটি এলাকা লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানি নিয়ে চলমান উত্তেজনা নিরসনে তিনি কাঠমান্ডুর ইতিবাচক মনোভাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।দুই দেশের মধ্যে প্রায় এক হাজার ৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে।

নেপালের শ্রম সংস্কৃতি পার্টির সংসদ সদস্য আরেন রাইয়ের এক সরাসরি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি নেপাল ও ভারতের একে অপরের ভূখণ্ড দখল করে রাখার এই জটিল ঐতিহাসিক বিষয়টি বিশদভাবে জানতে পারেন। এই ধরনের আঞ্চলিক বিরোধ কেবল রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কালাপানি ও লিপুলেখের মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত জটিলতাগুলোর স্থায়ী সমাধান কেবল দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।

পার্লামেন্টের অধিবেশনে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি বা ইউএমএল-এর উপ-সংসদীয় নেতা পদ্ম আরিয়াল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা এলাকা ব্যবহার করে ভারত ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক করিডোর প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানতে চান। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শাহ জানান, নেপাল সরকার ইতিমধ্যেই ভারতের কাছে এই সীমান্ত বিরোধের বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক এবং সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। নয়াদিল্লি থেকে এই প্রস্তাবের বিপরীতে একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক সাড়াও পাওয়া গেছে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দুই দেশের সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করতে আগ্রহী। এই বিশেষ দলে দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় ইতিহাসবিদ, পেশাদার সার্ভেয়ার এবং বিতর্কিত ভূখণ্ড সম্পর্কে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই যৌথ দলটির মূল কাজ হবে ঐতিহাসিক নথিপত্র ও মানচিত্র পরীক্ষা করে সমস্যার একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা। ভারত এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে সম্পূর্ণ সম্মতি জানিয়েছে।

একই সঙ্গে এই সীমান্ত বিরোধের ঐতিহাসিক সূত্রপাত নিয়ে চীন ও যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গেও নেপাল কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই আঞ্চলিক সমস্যার গোড়াপত্তন ঘটেছিল ১৮১৬ সালের ঐতিহাসিক সুগৌলি চুক্তির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে, যা তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত ও নেপাল রাজতন্ত্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ফলে এই বিরোধের নিষ্পত্তিতে যুক্তরাজ্যেরও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা থেকে আগ্রহ দেখানো উচিত বলে কাঠমান্ডু মনে করে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ঝুলে থাকা এই সমস্যার সমাধানে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশ এখন কতটা বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট ও অনলাইনখবর

banner
Link copied!