বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা: উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৬, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা: উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। রয়টার্স ও বিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ভেতর বেশ কিছু স্থাপনায় গত রাত থেকে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। দুই দেশের মধ্যকার এই সামরিক সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রাথমিক প্রচেষ্টাগুলোকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

তেহরান জানিয়েছে যে তারা জর্দান, কুয়েত এবং বাহরাইনসহ অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। সামরিক সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে এই আক্রমণের ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি বা সমঝোতার সম্ভাবনাকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সক্ষমতা কমাতে এবং নৌযানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয় ঘণ্টা ব্যাপী এক দফার বিমান হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দর আব্বাস এবং গ্রেটার টুনব দ্বীপসহ ইরানের ভেতর কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাগুলোতে আঘাত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

এর পরপরই পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা জর্দানে অবস্থিত মার্কিন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ আরোপ করেছে, যা গত মাসে এক সমঝোতার মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করে এমন অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানির পথগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে হবে, অন্যথায় সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হতে হবে। তবে ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবফ বলেছেন, যে চুক্তি ইরানের উপকারে আসবে না, তা মানার কোনো কারণ তেহরানের নেই। বিশ্ব অর্থনীতিতে এই সংকটের প্রভাব পড়ছে এবং তেল সরবরাহের পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলের গভীর উদ্বেগ।

banner
Link copied!