সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মোদির বাসভবনের কাছে পৌঁছেছিল পাকিস্তানি ড্রোন: জারদারি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

মোদির বাসভবনের কাছে পৌঁছেছিল পাকিস্তানি ড্রোন: জারদারি

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গত বছরের তীব্র সামরিক উত্তেজনার সময় পাকিস্তানের একটি ড্রোন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছেছিল বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে চালকহীন ওই বিমানটি বেশ কিছু সময় নয়াদিল্লির সেই স্পর্শকাতর আকাশসীমায় অবস্থানও করেছিল। সিন্ধু প্রদেশের মোরো এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জারদারি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।নয়াদিল্লির কূটনৈতিক বা সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এই দাবির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

প্রেসিডেন্ট জারদারির ভাষ্যমতে, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বিশেষ ড্রোনগুলো ভারতের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারকে ফাঁকি দিয়ে দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। এগুলো শুধু মোদির বাসভবনই নয়, বরং রাজধানী নয়াদিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত রাষ্ট্রীয় স্থাপনার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। একই জনসভায় তিনি আরও দাবি করেন যে ওই সংঘাতের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ভারতীয় বিমান বাহিনীর আটটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল। তবে এই সামরিক সাফল্যের পক্ষে তিনি জনসভায় সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ বা দালিলিক নথিপত্র উপস্থাপন করেননি।

এই বাগাড়ম্বরের সূত্রপাত ঘটেছিল গত বছরের এপ্রিল মাসের একটি রক্তক্ষয়ী ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগাঁও এলাকায় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন সাধারণ পর্যটক এবং একজন স্থানীয় ঘোড়াচালকসহ মোট ২৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনার জন্য নয়াদিল্লি সরাসরি সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদকে দায়ী করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিশেষ বিমান ও সামরিক হামলা চালানোর দাবি করেছিল। এর জবাবে ইসলামাবাদও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাল্টা বিমান হামলা ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করে।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কয়েক দিন ধরে চলা এই আকাশযুদ্ধ এবং ভারী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তীতে পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলো সরাসরি মধ্যস্থতায় নামে। ওয়াশিংটনের তীব্র কূটনৈতিক চাপের মুখে উভয় পক্ষই শেষ পর্যন্ত সীমান্ত ও আকাশসীমায় সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে সম্মত হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছর পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানের এই নতুন দাবি দুই দেশের ঠাণ্ডা কূটনৈতিক সম্পর্কে আবারও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।

banner
Link copied!