পারস্য উপসাগরে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। বুধবার সকালে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা নিশ্চিত করেছে। হামলায় বিমানবন্দরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ফলে সম্পূর্ণ বিমানবন্দরটির যাবতীয় কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এই হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইরান আবারও তাদের বেসামরিক এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। বিমানবন্দর ছাড়াও কুয়েতে অবস্থিত বেশ কয়েকটি দেশের diplomatic মিশনের কার্যালয়ও এই হামলায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনেও ইরানের পক্ষ থেকে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই বিমানবন্দর হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছিল যে তারা পারস্য উপসাগরে ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, ইরান তাদের আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা হয়। এছাড়া বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের দিকে ধেয়ে যাওয়া তিনটি ইরানি ড্রোনও মার্কিন বাহিনী ভূপাতিত করে। এই হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের কিউশম দ্বীপে অবস্থিত একটি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে আত্মরক্ষামূলক পাল্টা হামলা পরিচালনা করেছে। মার্কিন হামলায় কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মী হতাহত হয়নি বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে।
উপسাগরীয় অঞ্চলের এই নতুন উত্তেজনা নিরসনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থে ইরানের এই সরাসরি আঘাত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনে নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলা দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
