নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে রবিবারের ম্যাচে স্পেন ও আর্জেন্টিনার লড়াই কেবল বিশ্বকাপ জেতার জন্য নয়। এই ম্যাচের ফলাফল চলতি বছরের ব্যালন ডিঅর বিজয়ী নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, যদিও আধুনিক ফুটবলে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একচেটিয়া আধিপত্যের যুগ শেষ হয়েছে, তবুও এই বছরের পুরস্কারের দৌড়ে কোনো পরিষ্কার ফেভারিট নেই। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, চ্যাম্পিয়নস লিগ বা বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা না জিতে ব্যালন ডিঅর জেতা অত্যন্ত কঠিন।
গত উনিশ বছরে মাত্র চারবার এমন খেলোয়াড় এই পুরস্কার জিতেছেন যারা সেই বছর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা কোপা আমেরিকার শিরোপা জিততে পারেননি। এর মধ্যে তিনবারই জিতেছেন মেসি এবং একবার রোনালদো। ফলে হ্যারি কেন, এরলিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপে বা জুড বেলিংহামের মতো তারকারা অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য প্রদর্শন করলেও শিরোপার অভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটালেও কেন এবং বায়ার্নের সতীর্থ অলিস শিরোপার অভাবে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছেন।
রবিবারের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি এবং স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। উনচল্লিশ বছর বয়সী মেসি তার ক্যারিয়ারের অষ্টম ব্যালন ডিঅরের পর নবমটি জয়ের লক্ষ্যে রয়েছেন। আটটি গোল এবং চারটি অ্যাসিস্টসহ তিনি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন। অপরপক্ষে, স্পেনের হয়ে খেলা ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল এবারের আসরে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। বার্সেলোনার হয়ে মৌসুমজুড়ে চব্বিশ গোল এবং আঠারোটি অ্যাসিস্ট করা এই তরুণ খেলোয়াড় স্পেনের শিরোপা জয়ে মূল ভূমিকা রেখেছেন।
কিলিয়ান এমবাপে এবারের আসরে আট গোল করলেও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে শিরোপাশূন্য মৌসুম কাটানোয় তার ব্যালন ডিঅর জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। অন্যদিকে, নরওয়ের হয়ে সাত গোল করা হালান্ড লিগ কাপ ও এফএ কাপ জিতলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। সব মিলিয়ে রবিবারের ফাইনাল ম্যাচটি কেবল বিশ্বকাপের শিরোপা নয়, বরং ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার ব্যালন ডিঅর জয়ের দৌড়ে কার পাল্লা ভারী হবে, তা নির্ধারণ করতে পারে। মেসি না কি ইয়ামাল, কার হাতে উঠবে ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ এই ব্যক্তিগত পুরস্কার, তা দেখার জন্য ফুটবল প্রেমীদের অপেক্ষা কেবল সময়ের ব্যাপার।
