বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে চলতি বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে আল জাজিরা ও রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। সেমিফাইনালের চরম হতাশা কাটিয়ে দল দুটিকে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে। গত মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে দুই-শূন্য গোলে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স এবং তার পরের দিন আর্জেন্টিনার কাছে দুই-এক ব্যবধানে পরাজিত হয় ইংল্যান্ড। দুই দলের খেলোয়াড়রাই দীর্ঘ টুর্নামেন্ট শেষে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত থাকায় এই ম্যাচটি তাদের কাছে কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত মনে হতে পারে। ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল জানিয়েছেন যে তাদের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচটি খেলতে চাননি কারণ সবাই ফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে উত্তর আমেরিকায় এসেছিলেন।
তবে দলগত অর্জনের চাপ না থাকলেও এই ম্যাচটি কিছু খেলোয়াড়ের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ধরে ফরাসি দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকার পর এই ম্যাচের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন। সাতান্ন বছর বয়সী এই সফল কোচ ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দিয়েছিলেন এবং গত আসরেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। তার অধীনে ফ্রান্স গত এক দশকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ধারাবাহিক ও শক্তিশালী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই শিষ্যরা চাইবেন তাদের প্রিয় গুরুকে একটি স্মরণীয় জয় উপহার দিয়ে বিদায় জানাতে।
অন্য দিকে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের এক নতুন ইতিহাস গড়ার অনন্য সুযোগ। ছাব্বিশ বছর বয়সী এই তারকা স্ট্রাইকার চলতি আসরে ইতিমধ্যে আটটি গোল করেছেন এবং সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বিশটি। বর্তমান তালিকায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি আটটি গোল এবং চারটি অ্যাসিস্ট নিয়ে সবার উপরে রয়েছেন এবং বিশ্বকাপে তার সর্বমোট গোল সংখ্যা একুশটি। এমবাপ্পে যদি এই ম্যাচে আরও গোল করতে পারেন তবে তিনি মেসির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ বা অতিক্রম করতে পারবেন। একই সাথে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন এবং জুড বেলিংহাম উভয়েই ছয়টি করে গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন।
এই ম্যাচে দুই দলের কোচই মূল একাদশে বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে পারেন যা দলের রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচের সাথে জড়িয়ে রয়েছে বিশাল আর্থিক পুরস্কারের বিষয়টিও। টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল লাভ করবে উনত্রিশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে সাতাশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা কম স্পষ্ট তা হলো, এই আর্থিক পুরস্কার এবং ব্যক্তিগত রেকর্ডের হাতছানি খেলোয়াড়দের সেমিফাইনালের ক্লান্তি দূর করে কতটা উদ্বুদ্ধ করতে পারবে।
